সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেওয়ার পর এবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলোর দিকে নজর দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কাবেলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তিনি যদি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে সহযোগিতা না করেন এবং দেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভূমিকা না রাখেন, তবে পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারেন তিনিই।
এ বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে কাবেলো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর ভেনেজুয়েলা বর্তমানে একটি রূপান্তরকালীন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময় দেশটির স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে কাবেলোসহ মাদুরোর ঘনিষ্ঠদের ওপর সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
দুটি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগে কাবেলোর পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত। তাঁকে গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য ওয়াশিংটন আগে থেকেই কয়েক লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে রেখেছে।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাবেলোর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, এই দ্বন্দ্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা কাবেলোকে নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁদের আশঙ্কা, তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারেন। এ কারণে একদিকে তাঁর সহযোগিতা আদায়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে তাঁকে ক্ষমতার বাইরে রেখে নির্বাসনে পাঠানোর পথও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
মাদুরোকে আটক করার পর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কাবেলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে ওয়াশিংটন। সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, প্রতিরোধের পথ বেছে নিলে তাঁকেও মাদুরোর মতো পরিণতির মুখে পড়তে হবে বা নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এটি আইন বাস্তবায়নের অভিযান এবং আমাদের এই অভিযান এখনো শেষ হয়নি।’
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই মুহূর্তে কাবেলোকে সরাসরি ক্ষমতা থেকে সরানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ, এতে ‘কোলেক্টিভোস’ নামে পরিচিত সরকারপন্থী মোটরসাইকেল বাহিনী রাস্তায় নেমে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। ওয়াশিংটন চায় না, ভেনেজুয়েলায় এমন কোনো অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হোক। এই বাহিনীগুলোর প্রতিক্রিয়া অনেকটাই নির্ভর করবে তারা সরকার থেকে সুরক্ষা পাচ্ছে কি না, তার ওপর।
ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য পরবর্তী নিশানার তালিকায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজের নামও রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে নেতৃত্বের শূন্যতা এড়াতে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্রগুলো বলছে, কাবেলোর তুলনায় পাদ্রিনো কম অনমনীয় এবং নিজের নিরাপদে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ খুঁজতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা মেনে চলার সম্ভাবনা বেশি।
এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) ভেনেজুয়েলায় অবশিষ্ট শক্তিগুলোর ওপর সর্বোচ্চ প্রভাব খাটানোর কথা বলছেন। তিনি নিশ্চিত করতে চাইছেন, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন। তাঁরা অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করা, মাদক পাচার রোধ করা, তেল অবকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য সঠিক কাজ করবেন।’
সিএ/এসএ


