ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ‘যত দ্রুত সম্ভব’ দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের নিয়োগেরও সমালোচনা করেছেন।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর এটি মাচাদোর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। গত মাসে তিনি গোপনভাবে ভেনেজুয়েলা ছেড়েছিলেন।
অজ্ঞাত একটি স্থান থেকে সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাচাদো বলেন, ‘আমি যত দ্রুত সম্ভব ভেনেজুয়েলায় ফেরার পরিকল্পনা করছি।’ তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেলসি রদ্রিগেজের নিয়োগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। মাচাদো বলেন, ‘তিনি নিপীড়ন, নির্যাতন, দুর্নীতি ও মাদক পাচারের প্রধান স্থপতিদের একজন।’
রদ্রিগেজ, যিনি মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। মাচাদো বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ রদ্রিগেজকে প্রত্যাখ্যান করছেন এবং ভোটাররা বিরোধীদের পক্ষে ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীন ও স্বচ্ছ নির্বাচন হলে, আমরা ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পাব। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’
মাচাদো বলেন, তিনি গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন এবং এই পুরস্কার তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করতে চান। সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, মাচাদো যখন তৎক্ষণাৎ ট্রাম্পকে পুরস্কার দেননি, তখন ট্রাম্প তাঁর ওপর রাগান্বিত হয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাচাদোকে নিয়ে বলেন, ‘দেশের ভেতরে তাঁর পক্ষে জনসমর্থন নেই অথবা দেশের ভেতরে সম্মান নেই। তিনি খুবই দারুণ একজন নারী। কিন্তু দেশে কেউ তাঁকে শ্রদ্ধা করেন না।’
ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, মাচাদো ট্রাম্পকে পুরস্কার না দিয়ে নিজে গ্রহণ করায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ফক্স নিউজকে মাচাদো স্বীকার করেছেন, অক্টোবরের পর থেকে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি। মাচাদো বলেন, ‘তবে আমি অবশ্যই ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে এটি বলতে পারলে খুশি হব। আমরা ভেনেজুয়েলার জনগণের বিশ্বাস করি এবং নিশ্চিতভাবেই তাঁকে এটি দিতে চাই।’
সূত্র: ফক্স নিউজ, ওয়াশিংটন পোস্ট, সিএনএন
সিএ/এসএ


