ইরানে মূল্যবৃদ্ধি ঘিরে আন্দোলন তীব্র, সংঘর্ষে হতাহত দ্বিতীয় সপ্তাহে ইরানের বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ছাড়াল ৫৮০ ইরানের বিক্ষোভে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। গত রোববারও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩০ জন। নিহত ও আহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। একই সময়ে দেশজুড়ে অন্তত ৫৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে দোকানদারদের ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত রোববার তেহরান ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের শহর শিরাজ এবং পশ্চিম ইরানের একাধিক এলাকায় রাতভর বিক্ষোভ চলেছে। এসব বিক্ষোভে বর্তমান শাসনব্যবস্থা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান শোনা গেছে।
চলমান বিক্ষোভকে ইরানের বর্তমান শাসকদের জন্য ২০২২-২৩ সালের গণআন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই সময় ‘নীতি পুলিশ’-এর হেফাজতে মাসা আমিনি নামের এক তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান আন্দোলন এখনো সে সময়ের বিক্ষোভ বা ২০০৯ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-পরবর্তী গণবিক্ষোভের মতো ব্যাপক রূপ নেয়নি।
সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ মূলত পশ্চিম ইরানের কুর্দি ও লোর জনগোষ্ঠী-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীভূত হলেও তা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নিরাপত্তা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিহত হওয়ার পর এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ৮৬ বছর বয়সী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের ক্ষমতায় রয়েছেন।
অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার এখনো জনগণের সামনে বিশ্বাসযোগ্য কোনো পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, আগামী চার মাস নাগরিকদের প্রতি মাসে প্রায় ৭ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৫৪ টাকা, সমপরিমাণ ভাতা দেওয়া হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রাণহানি নিয়ে সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তারা যদি অতীতের মতো মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে।’
এএফপির হিসাব অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভ ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২৩টিতে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্তত ৪০টি শহরে বিভিন্ন মাত্রায় বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে, যার বেশির ভাগই ছোট ও মাঝারি আকারের শহর। সরকারি ঘোষণা ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই হিসাব প্রকাশ করেছে এএফপি।
সিএ/এসএ


