কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে বাগ্বিতণ্ডা ও ভিডিও করার জেরে দুই সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল। এ সময় পুলিশ তাঁদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পরদিনই চান্দিনার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নুরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁকে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-১ শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। রাত ৯টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল বুধবার বেলা দুইটার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় থেকে দুই সাংবাদিককে আটকের পর চান্দিনা থানায় নেওয়া হয়। দুই সাংবাদিকের অভিযোগ, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশে পুলিশ তাঁদের হাতে হাতকড়া পরায়। থানায় নেওয়ার পর বিকেল চারটার দিকে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। হাতকড়া পরানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন স্থানীয় দৈনিক আমার শহর-এর দেবীদ্বার প্রতিনিধি আবদুল আলীম ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার দেবীদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার। তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নুরের ভাষ্য, পুরো ঘটনাটি হয়েছে ভুল–বোঝাবুঝির কারণে। তিনি বলেন, হাতকড়া পরানোর আগপর্যন্ত তিনি জানতেন না ওই দুজন সাংবাদিককে আটক করা হবে। পরে দুই পক্ষ বসে বিষয়টি সমাধান করেছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-১ শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাকে (ফয়সাল আল নুর) সহকারী কমিশনার (ভূমি) থেকে প্রত্যাহারপূর্বক সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য তাঁর নামের পাশে বর্ণিত বিভাগের (সিলেট বিভাগ) বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’
ফয়সাল আল নুর ২০২৫ সালের ২০ মার্চ চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেছিলেন।
সিএ/এমই


