সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং এ বিষয়ে কার্যকর আলোচনা এগিয়ে নিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সমানসংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি বলেন, “সংবিধান ও আইন মানুষের জন্য, আইন কিংবা সংবিধানের জন্য মানুষ নয়।”
আলোচনায় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, অতীতে গণভোটের দাবি জানানো হলেও পরবর্তীতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছিল।
তিনি বলেন, “আমরা আমাদের জায়গায় আছি, জায়গা পরিবর্তন করিনি। দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে অনেক অসাংবিধানিক বা সংবিধানবহির্ভূত কাজ হয়ে গেছে, যেখানে আমরা আপত্তি করিনি। এখন এই সংসদীয় সংকট তৈরি না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।”
সংসদ সদস্যদের সংস্কার পরিষদের সদস্য হওয়া নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। এ বিষয়ে স্ববিরোধিতা না করার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আসুন একটা কমিটি করি। সংস্কার নিয়ে যে আলোচনা হলো, সেটি একটি যৌক্তিক গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হোক। সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষ থেকে সমানসংখ্যক সদস্য নিয়ে এই কমিটি গঠিত হলে আমরা সমানভাবে মতামত দিতে পারব। যদি শুধু সংখ্যার ভিত্তিতে কমিটি হয়, তবে তা কার্যকর হবে না।”
তিনি আরও বলেন, বিরোধীদল হিসেবে তারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চান। যেখানে সহযোগিতা প্রয়োজন সেখানে সহযোগিতা এবং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় বিরোধিতা অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সিএ/এমআর


