অনলাইনে জুয়ার সাইটের সন্ধান নিয়মিতই পাওয়া যায় এবং সেগুলো ব্লকও করা হয়। তবু নতুন নামে, নতুন ঠিকানায় আবার চালু হয় জুয়া। কখনও ওয়েবসাইট, কখনও আবার মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এই কার্যক্রম চলতেই থাকে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওয়েবসাইট ব্লক করা তুলনামূলকভাবে সম্ভব হলেও অ্যাপভিত্তিক জুয়া পুরোপুরি বন্ধ করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। কারণ গুগল প্লে বা অ্যাপল স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করেই অনেক ক্ষেত্রে জুয়া খেলা যায়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কর্মকর্তাদের মতে, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অ্যাপ সরাসরি ব্লক বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ফলে জুয়ার সাইট বা অ্যাপ নতুন নামে চালু হলেই আবার খুঁজে বের করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ব্লক করতে হয়। এদিকে প্রতিদিনই নতুন নতুন সাইট ও লিংক যুক্ত হচ্ছে অনলাইনে, যা পুরোপুরি জুয়ামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোনে জুয়া খেলার প্রবণতা বেড়েছে বলেও জানা গেছে। বিশেষ করে রাজধানী ও মফস্বল শহরের সেলুনগুলোতে ক্রিকেট খেলা চলাকালে মোবাইলে জুয়া খেলার প্রবণতা চোখে পড়ছে। রাজধানীর মিরপুরের সাড়ে ১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের আশপাশের সেলুনগুলোতে এই প্রবণতা তুলনামূলক বেশি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আরমান নামের এক সেলুনকর্মী বলেন, তিনি এখন প্রতি দিনই খেলেন। তিনি আরও জানান, মিরপুরের এমন কোনও সেলুন নেই যে, সেখানে জুয়া খেলা হয় না। শুধু সেলুন নয়, রেস্টুরেন্ট বা বাসাবাড়ির সামনের রাস্তায়ও একশ্রেণির তরুণ মোবাইলে গেম খেলার আড়ালে বিভিন্ন সাইটে জুয়া খেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমি সব সময় সবাইকে বলে আসছি— জুয়ার সাইটের লিংক আমাকে বা সংশ্লিষ্টদের পাঠালে তা ব্লক করা হবে। আমি বিটিআরসির সংশ্লিষ্টদের বলেছি, জুয়ার সাইট বা পর্নোগ্রাফির সাইট বা লিংক পেলে ব্লক করে আমার অনুমোদন নিতে। আমি অনুমোদন দিয়ে দেবো। এ ব্যাপারে কোনও ছাড় নেই।’
২০১৯ সালে নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে তিনি প্রথম জানান, দুই হাজার ২৩৫টি জুয়ার সাইটের খোঁজ পাওয়া গেছে এবং সেগুলো ব্লক করা হবে। একই বছরে দুই দফায় ১৭৮টি জুয়ার সাইট বন্ধ করার তথ্যও জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বিটিআরসির ডিজিটাল নিরাপত্তা সেল আরও ৩৩১টি জুয়ার সাইট বন্ধ করে দেয়।
চলতি বছরের মঙ্গলবার (১১ জুলাই) নিউজ পোর্টাল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনসহ যেসব ওয়েবসাইটে জুয়ার বিজ্ঞাপন দৃশ্যমান হয়, সেগুলো ব্লক করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ নির্দেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশে এক হাজার ১৪৭টি জুয়ার সাইট, দুই হাজারের বেশি ফেসবুক লিংক এবং চার শতাধিক ইউটিউব লিংক ব্লক করেছে বিটিআরসি। তবুও নতুন ঠিকানা ও নতুন অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে জুয়া আবারও ছড়িয়ে পড়ছে, যা নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিএ/এমআর


