ভারতের সাবেক পেসার চেতন শর্মা দাবি করেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে পাকিস্তান। তাঁর মতে, এটি একটি সাময়িক সিদ্ধান্ত এবং শিগগিরই পাকিস্তান তাদের অবস্থান বদলাতে পারে।
বিশ্বকাপের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার (৭ ডিসেম্বর) নয়, বরং ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বহুল আলোচিত ম্যাচটি হওয়ার কথা। তবে এর আগেই বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে ওই ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের কথা জানায় পাকিস্তান সরকার।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে কিছু জানায়নি। এর আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।
চেতন শর্মার মতে, পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের দোষটা কোথায়? কোনো দোষই নেই। এটা পুরোপুরি রাজনীতি। বাংলাদেশে ১২ তারিখ নির্বাচন আছে। এরপরই দেখবেন ইউ টার্ন। তখন বলা হবে, “জনমতকে সম্মান জানিয়ে ক্রিকেটকে ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত নয়, পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে খেলবে।” পুরো অবস্থানটাই আসলে বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে।’
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, নির্বাচনের পর পাকিস্তানের সেনাপ্রধানও হস্তক্ষেপ করে খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখার আহ্বান জানাতে পারেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি নিজে রাজনীতি করেছি, নির্বাচনেও অংশ নিয়েছি। নির্বাচনের পর হয়তো সেনাপ্রধানও বলবেন, খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা উচিত এবং ম্যাচ হওয়া দরকার।’
চেতন শর্মা মনে করেন, পাকিস্তান সরকারের অনমনীয় অবস্থানের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাই। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে পাকিস্তান আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করার আগপর্যন্ত এমন বক্তব্যের কোনো মূল্য নেই। যে কেউ অবসর ঘোষণা করতে পারে, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালে কিছুই বদলায় না। এখানে আসলে কে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? ক্রিকেট আর ক্রিকেটাররা।’
ভারতের হয়ে ২৩টি টেস্টে ৬১ উইকেট এবং ৬৫টি ওয়ানডেতে ৬৭ উইকেট নিয়েছেন চেতন শর্মা। ১৯৮৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েন তিনি। ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বহুজন সমাজ পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং পরে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়ে দলটির ক্রীড়া সেলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ২০২৬ আইসিসি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে পাকিস্তান, তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে তারা মাঠে নামবে না। এরপর গত বুধবার ইসলামাবাদে মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা খুব পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছি—আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। কারণ, খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয়।’
সিএ/এমই


