ব্রাজিলে জন্ম নেয়া এবং ফুটবল নিয়ে কারিকুরি করা শিশুর উদাহরণ পাওয়া দুষ্কর। পালমেইরাসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ডগলাস সুসার চোখ আটকে যায় তার তিন বছর বয়সী পুত্র এনদ্রিক ফেলিপের বাইসাইকেল কিকের ওপর। এ ছোট্ট ঘটনাই শুরু করে এনদ্রিকের ফুটবল যাত্রা।
ব্রাজিলের শীর্ষ ক্লাব পালমেইরাসের নজরে আসে এনদ্রিক। মাত্র ১১ বছর বয়সে বয়সভিত্তিক দলে খেলা শুরু করেন তিনি। এরপরই তিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ‘বিস্ময় বালক’ হিসেবে পরিচিত হন। যোগ দেওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে দেড় শতাধিক গোল করে মূল দলে জায়গা করে নেন। মূল দলে এসে পালমেইরাসের ১০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে দেন। ২০২২ সালে মাত্র ১৬ বছর ৩ মাস ৭ দিনের বয়সে প্যারানায়েন্সের বিপক্ষে গোল করে ইতিহাস গড়ে ফেলেন তিনি।
এই প্রতিভার মূল্য হিসেবে ক্লাব তাকে ৪০ মিলিয়ন ইউরো ধরে রাখে। তবে ইউরোপের সফলতম ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ৬৩.৬ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে তাকে দলে ভেড়ায়। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পরই তিনি রিয়ালে যোগ দেন। এ সময়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকও ঘটে, ১৯৯৪ সালে রোনালদোর পর সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে।
রিয়াল মাদ্রিদ অধ্যায় : সম্ভাবনার চাপ ও বাস্তবতা
পালমেইরাস থেকে রিয়াল মাদ্রিদে পা রাখার সময় এনদ্রিকের তুলনা হচ্ছিল রোনালদো-পেলেদের সঙ্গে। বয়স কম হলেও প্রত্যাশা ছিল বিশাল। রিয়ালে শুরুটা মোটামুটি ভালো হলেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, বেলিংহ্যামের মতো তারকাদের সঙ্গে একাদশে স্থায়ী জায়গা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমবাপ্পের প্রাধান্যও এনদ্রিকের সম্ভাবনাকে সীমিত করে।
নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ না পেয়ে মাদ্রিদের বেঞ্চে অবস্থান করে তিনি। বিশ্বকাপের স্বপ্নের পথে এটি চাপ সৃষ্টি করলেও লিওঁতে ধারাবাহিক খেলার সুযোগ এনেছে আত্মবিশ্বাস।
লিওঁতে রাজাসুলভ প্রত্যাবর্তন
ফরাসি লিগে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এনদ্রিক নতুন জীবন পেয়েছেন। দলটি তার ওপর নির্ভর করে আক্রমণ সাজাচ্ছে। দ্রুতগতির ড্রিবল, নিখুঁত ফিনিশিং ও চাপের মধ্যে শান্ত থাকার ক্ষমতা তাকে অলিম্পিক লিওঁর আক্রমণের মূল ভরসা করে তুলেছে।
৫ ম্যাচে হ্যাটট্রিকসহ ৫ গোল ও ম্যাচ-নির্ধারক পারফরম্যান্স এনদ্রিককে সমর্থকদের প্রিয় খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যমে তাকে বলা হচ্ছে ‘লিওঁর নতুন রাজা’। লিওঁর সঙ্গে চুক্তিতে থাকায় রিয়ালের কাছে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।
বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাস্তবের পথে
লিওঁতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফলে ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের নজরে আবারও শক্তভাবে জায়গা করে নিচ্ছেন এনদ্রিক। আক্রমণভাগে প্রতিভার অভাব না থাকলেও ফর্মই কোচ আনচেলত্তির কাছে প্রধান মানদণ্ড। ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিল স্কোয়াডে তার জায়গা নিশ্চিত হতে পারে।
সিএ/এমই


