বর্তমানে স্মার্ট টিভি শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্মার্ট ও আকর্ষণীয় করে তুলছে। ইন্টারনেট সংযোগ, ভিডিও স্ট্রিমিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, গেম খেলা—সবই এখন স্মার্ট টিভির মাধ্যমে সম্ভব। তবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কিছু বিষয় আগে থেকেই জানা ভালো।
স্ক্রিনের আকার এবং রেজল্যুশন
ঘরের আকার অনুযায়ী টিভির সঠিক মাপ নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ঘরের জন্য ৩২–৪০ ইঞ্চি, বড় ঘরের জন্য ৫৫ ইঞ্চি বা তার বেশি টিভি মানানসই। রেজল্যুশনের ক্ষেত্রে, সাধারণ ব্যবহারের জন্য ফুল এইচডি যথেষ্ট হলেও সিনেমা দেখা বা গেম খেলার জন্য ফোর কে রেজল্যুশন বেশি সুবিধাজনক। এইট কে রেজল্যুশন কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও ভবিষ্যতের জন্য ভালো বিনিয়োগ হতে পারে।
টিভির ফিচার
স্মার্ট টিভি দিয়ে নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইম, ইউটিউব, হুলু এবং অন্যান্য স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সামাজিক যোগাযোগ, ভিডিও গেম খেলা এবং ভয়েস রিকগনিশন ফিচারের সুবিধাও থাকে। ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে টিভি চালু বা বন্ধ করা সম্ভব। তাই কেনার আগে ফিচার সম্পর্কে জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
কানেকটিভিটি এবং পোর্ট
এইচডিএমআই, ইউএসবি, ব্লু-টুথ এবং ওয়াই-ফাই কানেকশন পরীক্ষা করা উচিত। এইচডিএমআই পোর্টের মাধ্যমে গেম কনসোল, ল্যাপটপ বা ব্লু-রে প্লেয়ার সংযোগ করা যায়। ইউএসবি পোর্টের মাধ্যমে পেন ড্রাইভ বা এক্সটার্নাল হার্ডড্রাইভ ব্যবহার করা যায়। ব্লু-টুথের মাধ্যমে হেডফোন বা অডিও সিস্টেম সংযোগ করা সম্ভব।
অডিও কোয়ালিটি
উচ্চ রেজল্যুশনের সঙ্গে ভালো অডিও কোয়ালিটি থাকা জরুরি। অনেক স্মার্ট টিভির অডিও দুর্বল থাকে, তাই কেনার আগে সাউন্ড পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
ব্র্যান্ড ও পর্যালোচনা
বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের টিভি নির্বাচন করা ভালো। পুরনো এবং দীর্ঘদিন ধরে বাজারে থাকা ব্র্যান্ডের দিকে নির্ভর করতে পারেন। নতুন ব্র্যান্ড হলে ব্যবহারকারীর রিভিউ যাচাই করে নেওয়া জরুরি। অনলাইনে লাইভ অভিজ্ঞতা দেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
দাম ও বাজেট
টিভির দাম আকার, রেজল্যুশন, ফিচার ও ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। বাজেট সীমিত হলে সাধারণ ফিচারযুক্ত টিভি বেছে নিতে পারেন। প্রিমিয়াম ফিচার বা ফোর/এইট কে রেজল্যুশন চাইলে বেশি দামেও বিনিয়োগ করতে হবে। বাজারের ডিসকাউন্ট ও অফার নজর রাখলে সঠিক মূল্যে সেরা টিভি পাওয়া যায়।
সিএ/এসএ


