চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক “ডিজিটাল মানব” বা ভার্চুয়াল মানুষের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নতুন খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করেছে দেশটির সাইবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই নীতিমালায় বিশেষভাবে শিশুদের জন্য বিভ্রান্তিকর ও আসক্তিমূলক সেবা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য “ভার্চুয়াল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক” ধরনের যেকোনো সেবা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হবে। পাশাপাশি এমন কোনো কনটেন্ট বা সেবা চালু রাখা যাবে না, যা শিশুদের ভুল পথে প্রভাবিত করতে পারে বা তাদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ডিজিটাল মানব তৈরি করা যাবে না। এছাড়া ভার্চুয়াল চরিত্র ব্যবহার করে পরিচয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে চীন। খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, ডিজিটাল মানব ব্যবহার করে এমন কোনো কনটেন্ট ছড়ানো যাবে না যা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে উৎসাহ দেয়, বিচ্ছিন্নতাবাদকে উস্কে দেয় বা জাতীয় ঐক্য ক্ষুণ্ন করে।
সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ, সহিংস কিংবা বৈষম্যমূলক কনটেন্ট প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে কোনো ব্যবহারকারীর মধ্যে আত্মহানি বা আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনাও যুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করছে বেইজিং। সম্প্রতি ঘোষিত পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় প্রযুক্তি খাতে এআই ব্যবহারের বিস্তারে জোর দেওয়া হলেও, তা নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, ডিজিটাল মানব খাতের দ্রুত বিকাশের ফলে নীতিগত শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে এবং শিল্পের স্বাস্থ্যকর বিকাশ নিশ্চিত হবে।
খসড়া নীতিমালাটি আগামী ৬ মে পর্যন্ত জনমতের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে এটি কার্যকর করা হতে পারে।
সিএ/এমআর


