যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় অংশগ্রহণ কমে আসছে। নিয়মিত পোস্ট করা, মন্তব্য লেখা কিংবা বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করার প্রবণতা গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে আগ্রহ বেড়েছে এবং অনেকেই নিজেদের স্ক্রিনটাইম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। দেশটির যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের সাম্প্রতিক জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে।
অফকমের ‘অনলাইন হ্যাবিটস অ্যান্ড ইউসেজ’ শীর্ষক জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ৪৯ শতাংশ মানুষ ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও এক্সে সক্রিয়ভাবে পোস্ট করেন, যা আগের বছরের ৬১ শতাংশ থেকে কম। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীরা এখন বেশি ঝুঁকছেন ক্ষণস্থায়ী বা সাময়িক কনটেন্টের দিকে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে এক ধরনের নিষ্ক্রিয় প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবহারকারীরা এখন নিজেদের অনলাইন উপস্থিতি নিয়ে আগের তুলনায় বেশি সতর্ক। অনেকেই উন্মুক্ত পোস্টের পরিবর্তে ব্যক্তিগত যোগাযোগ মাধ্যম, যেমন গ্রুপ চ্যাট বা ডাইরেক্ট মেসেজ ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে ‘ডিজিটাল আত্মরক্ষা’র প্রবণতা বাড়ছে।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, অনলাইনে প্রকাশিত তথ্য ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কা অনেকের মধ্যেই কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা একে দায়বদ্ধতার ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করছেন।
অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দ্রুত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৪ সালে যেখানে ৩১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এ প্রযুক্তি ব্যবহার করতেন, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ শতাংশে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ডিজিটাল ক্লান্তি’ এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। সময়ের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুনত্ব কমে যাওয়ায় ব্যবহারকারীরা এখন এটিকে বিনোদননির্ভর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছেন। ফলে অংশগ্রহণকারীর বদলে দর্শকের সংখ্যা বাড়ছে।
সিএ/এমআর


