২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে হ্যাকাররা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও নিখুঁত হয়েছে। জেমিনাই, ডিপফেইক ও অন্যান্য এআইচালিত প্রযুক্তি অপব্যবহার করে অনলাইন জগৎ এখন চরম অনিরাপদ। এতে সাধারণ ব্যবহারকারী এবং বড় কোম্পানিগুলো আর্থিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এ বছরের শুরুতে গুগলের সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা নতুন ও উদ্বেগজনক কৌশল শনাক্ত করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, হ্যাকাররা এআইচালিত টুল ব্যবহার করে এমন ফাঁদ তৈরি করছে, যা থেকে বাঁচা প্রায় অসম্ভব। জেমিনাই ব্যবহার করে প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধান করা হয়, পরে ডিপফেইক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জুম কলের মাধ্যমে প্রতারণা করা হয়। বিশেষ এক ঘটনায়, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্ত হ্যাকাররা একজন সিইও’র ডিপফেইক তৈরি করে তার কম্পিউটারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নষ্ট করানোর চেষ্টা করেছে।
এ ধরনের এআইনির্ভর অপরাধকে বিশেষজ্ঞরা সাইবার অপরাধের ‘ফিফথ ওয়েভ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। এআইয়ের অপব্যবহার মানুষের সহজাত দক্ষতা, যেমন অন্যকে প্রভাবিত করা, অনুকরণ করা বা কোডিং করা, শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত করছে।
সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিং আক্রমণে হ্যাকাররা সংবেদনশীল তথ্য বা অর্থ চুরি করতে মানুষকে প্রলুব্ধ করছে। জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে পরিচিত ব্যক্তিদের ছদ্মবেশ ধারণ করা হচ্ছে, যা আগে দেখা যায়নি। এগুলো বাস্তবসম্মত ইমেইল স্ক্যাম, কৃত্রিম ভয়েস কল ও ডিপফেইক ভিডিও কলে ঘটতে পারে।
নেটফ্লিক্স সাবস্ক্রিপশনের দামেও ডার্ক ওয়েবে ‘ফিশিং কিট’ পাওয়া যাচ্ছে। ‘সিনথেটিক আইডেন্টিটি কিট’-এ এআই ভিডিও অ্যাক্টর, ক্লোন করা ভয়েস ও বায়োমেট্রিক ডেটা অন্তর্ভুক্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই অপরাধীদের কাজের পরিধি বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সামাজিক প্রতারণা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
‘পিগ বুচারিং’ স্ক্যামে অপরাধীরা ভুক্তভোগীর সঙ্গে আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি করে দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বাস অর্জন করে, পরে ভুয়া বিনিয়োগে অর্থ হাতিয়ে নেয়। এআই এই প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে তুলেছে।
অটোনোমাস ম্যালওয়্যার গুগল জেমিনাই বা অন্যান্য এলএলএম ব্যবহার করে নিজস্ব কোড রিয়েল-টাইমে পরিবর্তন করতে পারে। প্রম্পটফ্লাক্সের মতো নতুন ম্যালওয়্যার ‘থিংকিং রোবট’ ফাংশন ব্যবহার করে প্রতি ঘণ্টায় সোর্স কোড নতুন করে লিখে শনাক্ত এড়িয়ে চলে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভেক্ট্রা এআই জানিয়েছে, ২০২৫ সালে এআইচালিত স্ক্যাম ১,২০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ২০২৭ সালের মধ্যে এ ধরণের ক্ষতি ৪,০০০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১,৬৬০ কোটি ডলার।
সিএ/এমআর


