বিশ্বের প্রযুক্তি খাতে আজ যেসব প্রতিষ্ঠান আধিপত্য বিস্তার করছে, তাদের অনেকের শুরুটা ছিল একেবারেই সাধারণ পরিবেশে। যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে—বড় কিছু শুরু করতে হলে একটি গ্যারেজই যথেষ্ট। অ্যাপল, গুগল, মাইক্রোসফট কিংবা অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর শুরুর গল্পে এই গ্যারেজ-সংস্কৃতির ছাপ স্পষ্ট।
১৯৭৬ সালের ১ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়ার লস আল্টোসের একটি বাড়ির গ্যারেজে স্টিভ জবস ও স্টিভ ওজনিয়াক অ্যাপলের যাত্রা শুরু করেন। বাড়িটি ছিল জবসের শৈশবের বাসস্থান। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে এটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। যদিও ওজনিয়াক পরে রসিকতা করে জানান, গ্যারেজে বসে খুব বেশি উৎপাদন হয়নি, তবে ধারণা বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আজ সেই গ্যারেজ থেকেই জন্ম নেওয়া অ্যাপল বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
একইভাবে ১৯৯৮ সালে ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন মেনলো পার্কে একটি গ্যারেজ ভাড়া নিয়ে গুগলের কাজ শুরু করেন। ওই বাড়ির মালিক ছিলেন সুসান ওজস্কি, যিনি পরে ইউটিউবের নেতৃত্ব দেন। গুগল প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্তিতে গ্যারেজটি ভার্চ্যুয়ালি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল।
সিলিকন ভ্যালির ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে পালো আল্টোর একটি গ্যারেজের, যাকে প্রায়ই এই প্রযুক্তি অঞ্চলের জন্মস্থান বলা হয়। ১৯৩৮ সালে বিল হিউলেট ও ডেভিড প্যাকার্ড সেখানে এইচপি প্রতিষ্ঠা করেন। একটি অডিও অসিলেটর তৈরি করে তাঁরা ডিজনির একটি চলচ্চিত্রে তা বিক্রি করে প্রথম বড় সাফল্য পান। পরবর্তীতে স্থানটি ঐতিহাসিক স্বীকৃতি লাভ করে।
মাইক্রোসফটের শুরুর সময়টাও ছিল বেশ সাদামাটা। বিল গেটস ও পল অ্যালেন নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কে একটি গ্যারেজ থেকে কাজ শুরু করেন। যদিও তাঁদের উল্লেখযোগ্য কাজের একটি অংশ সম্পন্ন হয়েছিল একটি মোটেলে, যেখানে তারা প্রোগ্রামিং ভাষার একটি সংস্করণ তৈরি করেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর ওয়াশিংটনে স্থানান্তরিত হলেও শুরুটা ছিল সংগ্রামের।
অন্যদিকে ১৯৯৫ সালে জেফ বেজোস ওয়াশিংটনের বেলভিউতে একটি ভাড়া বাড়ির গ্যারেজ থেকেই অ্যামাজনের যাত্রা শুরু করেন। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই গ্যারেজসহ বাড়িটি বেছে নিয়েছিলেন, যেন একটি গ্যারেজ-স্টোরি তৈরি হয়। অল্প ভাড়ার সেই বাড়ি থেকেই গড়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান।
এইসব উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, বড় সাফল্যের জন্য শুরুটা সবসময় জাঁকজমকপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন নেই। বরং সীমিত সম্পদ ও উদ্ভাবনী চিন্তা থেকেই গড়ে উঠতে পারে বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারকারী প্রতিষ্ঠান।
সিএ/এমআর


