বসন্তের শেষ ভাগ ও কালবৈশাখীর আগমনের এই সময়ে দেশের আকাশ প্রায়ই মেঘলা থাকলেও, মেঘমুক্ত রাত হলে এপ্রিলের প্রথমার্ধ জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য হয়ে উঠতে পারে দারুণ উপভোগ্য। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশে একাধিক গ্রহের উপস্থিতি, চাঁদের বিশেষ অবস্থান এবং উল্কাপাত মিলিয়ে এক ধরনের মহাজাগতিক উৎসবের দেখা মিলতে পারে।
এপ্রিলের শুরুতে গ্রহগুলোর অবস্থানে কিছু পরিবর্তন এলেও সন্ধ্যার আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে দেখা যাবে শুক্র গ্রহকে। এটি ধীরে ধীরে তার সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতার দিকে এগোচ্ছে। একই সময়ে মঙ্গল গ্রহকে সন্ধ্যায় বৃষ রাশি নক্ষত্রপুঞ্জের কাছাকাছি দেখা যাবে, যার লালচে আভা খালি চোখেই স্পষ্ট বোঝা যাবে।
ভোরের আকাশেও থাকবে বিশেষ আকর্ষণ। পূর্ব দিগন্তে পাশাপাশি দেখা মিলবে শনি ও বৃহস্পতি গ্রহের। বিশেষ করে ১০ এপ্রিলের পর শনি গ্রহ দিগন্ত থেকে অনেকটা ওপরে উঠে আসবে, যা টেলিস্কোপ দিয়ে পর্যবেক্ষণের জন্য অনুকূল সময় তৈরি করবে।
চাঁদের অবস্থানও এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ১২ ও ১৩ এপ্রিল রাতে চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহকে খুব কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যাবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় একে কনজাংশন বলা হয়। বাইনোকুলার ব্যবহার করলে একই ফ্রেমে এই দুই মহাজাগতিক বস্তুর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।
এ সময় আকাশে নক্ষত্রপুঞ্জের অবস্থানেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। মার্চের পরিচিত নক্ষত্রপুঞ্জগুলো ধীরে ধীরে পশ্চিমে সরে যাবে এবং নতুন নক্ষত্রপুঞ্জ পূর্ব-দক্ষিণ আকাশে জায়গা করে নেবে। এর মধ্যে সিংহ রাশি নক্ষত্রপুঞ্জ বিশেষভাবে দৃশ্যমান থাকবে। এর উজ্জ্বল নক্ষত্র রেগুলাস নীলচে-সাদা আভায় জ্বলজ্বল করবে। পাশাপাশি উত্তর আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডলের সাতটি নক্ষত্র অনেক উঁচুতে অবস্থান করবে, যা দেখে সহজেই ধ্রুবতারা নির্ণয় করা যাবে।
সিএ/এমআর


