কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার মানুষের জীবনকে সহজ করে তুললেও এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত বৃহৎ ডেটা সেন্টারগুলো আশপাশের এলাকার তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ডেটা সেন্টার থেকে নির্গত তাপ স্থানীয়ভাবে ‘হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব তৈরি করছে, যার ফলে আশপাশের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩৪ কোটি মানুষ এমন অঞ্চলে বসবাস করছে, যা কোনো না কোনো ডেটা সেন্টারের প্রভাবাধীন।
গবেষকেরা গত দুই দশকের স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা ৮ হাজার ৪০০টির বেশি ডেটা সেন্টারের অবস্থান ও আশপাশের ভূমির তাপমাত্রার তুলনা করেছেন। এতে দেখা গেছে, একটি ডেটা সেন্টার চালু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আশপাশের তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হতে পারে।
এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি শুধু ডেটা সেন্টারের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এমনকি ৭ কিলোমিটার দূরত্বেও তাপমাত্রার প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে টিকে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। এই বিদ্যুৎ প্রসেসরের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে তাপ উৎপন্ন করে এবং তা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কুলিং সিস্টেম সেই তাপ বাইরে ছড়িয়ে দেয়। ফলে স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা ও সক্ষমতা দ্রুত বাড়বে, যার বড় অংশই এআই খাতে ব্যবহৃত হবে। এ কারণে এই তাপীয় প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ডেটা সেন্টারের নকশা ও অবস্থান নির্ধারণে এখনই সচেতন না হলে এটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের জলবায়ু সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
সিএ/এমআর


