সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে কয়েক দিনের মধ্যেই চারজন নভোচারী বিশাল এক রকেটে চড়ে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর এই প্রথম নাসার আর্টেমিস–২ মিশনের মাধ্যমে মানুষ আবার চাঁদের পথে পা বাড়াতে যাচ্ছে। কারিগরি জটিলতার কারণে একাধিকবার সময় পিছিয়ে গেলেও এখন ১ এপ্রিল (বাংলাদেশ সময় ২ এপ্রিল) উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছে।
এই মিশনে নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না। বরং তারা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এ যাত্রায় তারা পৃথিবী থেকে ৪ লাখ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে পৌঁছাবেন, যা অ্যাপোলো ১৩–এর পর মানুষের সর্বোচ্চ দূরত্বে ভ্রমণের রেকর্ড গড়তে পারে।
অ্যাপোলো ১৭–এর পর দীর্ঘ সময় চন্দ্রাভিযান বন্ধ ছিল। সে সময় বিজ্ঞানীরা মনে করেছিলেন, চাঁদে পানি বা ভূতাত্ত্বিক কার্যক্রম না থাকায় সেখানে দীর্ঘমেয়াদি বসবাস সম্ভব নয়। তবে পরবর্তীতে ভারতের চন্দ্রযান-১ মিশন চাঁদে পানির উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়ার পর নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদের মেরু অঞ্চলের গভীর গর্তে বিপুল পরিমাণ বরফ রয়েছে। এই বরফ থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন করে ভবিষ্যতে রকেটের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি হিলিয়াম-৩ নামের একটি আইসোটোপের উপস্থিতিও শনাক্ত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নিউক্লিয়ার ফিউশনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
এই আবিষ্কারগুলোর পর বিশ্বজুড়ে চন্দ্রাভিযানে নতুন গতি এসেছে। নাসা ইতোমধ্যে এই কর্মসূচির জন্য প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে এবং ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণের লক্ষ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও বড় অঙ্কের চুক্তি করেছে।
সিএ/এমআর


