সাইবার স্পেসে বাড়ছে নারীদের হয়রানির ঘটনা, উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইলিং ও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মতো নানা কৌশলে ফাঁদ পেতে অপরাধীরা টার্গেট করছে নারীদের। অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনার মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে ভুক্তভোগীরা চরম সিদ্ধান্তের দিকেও ঝুঁকছেন। গত এক বছরে দেশে ১৩ হাজারেরও বেশি নারী এ ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার হয়েছেন।
এমন এক ঘটনার শিকার হন মধ্যবয়সী এক নারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আশরাফ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রায় ছয় মাসের পরিচয়ে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তা প্রেমের দিকে গড়ায়। নিয়মিত মেসেঞ্জারে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগে প্রতারক ব্যক্তি কৌশলে ওই নারীর ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ করে রাখে।
পরবর্তীতে সেই ভিডিও ও ছবি দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে হুমকি দেওয়া হয় এবং অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই নারী পুলিশের সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আশরাফকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ হাজার ৮১৩ নারী সাইবার সংক্রান্ত অভিযোগ করেন। এর মধ্যে ৪৮০টি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে ১৬৩টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৩১৭টি এখনো মুলতবি রয়েছে। এছাড়া ১২ হাজার ৬৩২টি অভিযোগ টেলিফোনের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, নারীদের সাইবার হয়রানির অভিযোগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত আইনগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৯ হাজার ১৬৫ নারী সাইবার হয়রানির শিকার হয়ে সহায়তা চান। এর মধ্যে ডক্সিংয়ের শিকার হন ৪৫ শতাংশ, ব্ল্যাকমেইলিং ১৮ শতাংশ, আইডি হ্যাক ১৭ শতাংশসহ অন্যান্য অপরাধের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসচেতনতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অসতর্ক আচরণের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সক্রিয় হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, সাইবার স্পেসে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়ানো জরুরি, নইলে সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সিএ/এমআর


