কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের প্রেক্ষাপটে মানুষের তৈরি কনটেন্ট আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে বিশ্বজুড়ে ‘হিউম্যান-মেড’ বা ‘এআই-মুক্ত’ লোগো চালুর উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে। পণ্য কিংবা সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার হয়নি—এ বার্তা দিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ চিহ্ন ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।
এরই মধ্যে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ‘প্রাউডলি হিউম্যান’, ‘হিউম্যান-মেড’, ‘নো এআই’ কিংবা ‘এআই-ফ্রি’ ধরনের ট্যাগলাইন ব্যবহার শুরু হয়েছে। চলচ্চিত্র, বিপণন সামগ্রী, বই এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এসব চিহ্ন ক্রমশ দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
এ উদ্যোগের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার। অনেকের আশঙ্কা, এর ফলে বিভিন্ন পেশায় মানুষের কাজের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। তাই মানবসৃষ্ট কনটেন্টকে আলাদা করে তুলে ধরার প্রবণতা বাড়ছে।
বাজার গবেষণা বলছে, অন্তত আটটি ভিন্ন উদ্যোগ বর্তমানে একটি গ্রহণযোগ্য আন্তর্জাতিক মানের লোগো তৈরির চেষ্টা করছে। উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, এটি যেন ‘ফেয়ার ট্রেড’ চিহ্নের মতো বৈশ্বিক স্বীকৃতি পায়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন ধরনের লোগো ব্যবহারের কারণে ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। সুস্পষ্ট সংজ্ঞা ও মানদণ্ড না থাকলে এই উদ্যোগের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
ফ্যাশন, বিজ্ঞাপন, প্রকাশনা ও সঙ্গীত শিল্পে ইতোমধ্যে এআইয়ের প্রভাব দৃশ্যমান। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ‘মানবসৃষ্ট’ সনদ প্রদান শুরু করেছে। এতে উন্নত সফটওয়্যার ও বিশ্লেষকদের সহায়তায় নির্ধারণ করা হয়, কোনো কনটেন্ট তৈরিতে এআই ব্যবহৃত হয়েছে কি না।
২০২৪ সালের আলোচিত সিনেমা ‘হেরেটিক’-এর শেষে উল্লেখ করা হয়, এতে কোনো জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করা হয়নি। একইভাবে প্রকাশনা সংস্থাগুলোও কিছু বইয়ে ‘মানবসৃষ্ট’ সিল ব্যবহার করছে।
লেখক সারাহ হল বই লেখায় এআই ব্যবহারের বিষয়টিকে ‘সৃজনশীল চুরি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান পাণ্ডুলিপি থেকে ই-বুক পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ যাচাই করে সনদ প্রদান করছে। ভবিষ্যতে গান, আলোকচিত্র ও অ্যানিমেশনেও এই ধরনের সনদ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মানুষের সৃজনশীলতার সুরক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ সময়ের দাবি।
সিএ/এমআর


