চিলির অ্যালার্স কোস্টেরো ন্যাশনাল পার্কের গভীর অরণ্যে অবস্থিত ‘গ্র্যান আবুয়েলো’ নামের প্রাচীন গাছটিকে ঘিরে নতুন এক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান সামনে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গাছটির প্রকৃত বৈশিষ্ট্য শুধু দৃশ্যমান অংশে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর নিচের মাটিতেই লুকিয়ে রয়েছে বিস্ময়কর এক অণুজীব জগৎ।
বায়োডাইভার্সিটি অ্যান্ড কনজারভেশন সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, গাছটির গোড়ার মাটিতে তিন শতাধিক প্রজাতির ছত্রাক শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রজাতিই পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এই ছত্রাকগুলো গাছটির সঙ্গে মাইকোরাইজাল নেটওয়ার্ক তৈরি করে পারস্পরিক সহাবস্থানে টিকে আছে।
গবেষকদের মতে, এই ছত্রাক-জালিকা গাছটিকে শুধু পানি ও পুষ্টি সরবরাহই করে না, বরং পুরো বনাঞ্চলের অণুজীব ইকোসিস্টেমের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। গাছটির উচ্চতা ৬০ ফুটের বেশি এবং কাণ্ডের ব্যাস প্রায় ১৩ ফুট। পরিবেশবিজ্ঞানী জোনাথন বারিচিভিচের বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, গাছটির বয়স প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর। এ তথ্য সঠিক হলে এটি বিশ্বের প্রাচীনতম জীবিত গাছগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে।
ডিএনএ সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এই অণুজীব নেটওয়ার্কের মানচিত্র তৈরি করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাছটি সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে ছত্রাককে শর্করা সরবরাহ করে এবং ছত্রাক মাটির গভীর থেকে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পানি এনে দেয়। এই সমন্বিত প্রক্রিয়াই গাছটিকে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকতে সহায়তা করেছে।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বরফ যুগে এই অঞ্চল একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল, যার ফলে এখানে অণুজীবের ধারাবাহিক বিবর্তন ঘটেছে। পাশাপাশি, এই ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্ক বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড ধরে রেখে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সিএ/এমআর


