বজ্রপাত একটি সাধারণ প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও এর প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বজ্রপাতের শিকার হন, যার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ মৃত্যুবরণ করেন। যারা বেঁচে যান, তাদের অনেকের জীবনেই ঘটে স্থায়ী পরিবর্তন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় মানুষের শরীরের ভেতর দিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, যা স্নায়ুতন্ত্র, হৃদযন্ত্র ও ত্বকে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন, আবার কেউ কেউ শরীরে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার অনুভূতিও বুঝতে পারেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার বাসিন্দা গ্যারি রেনল্ডস নামের এক ব্যক্তি একাধিকবার বজ্রপাতের শিকার হয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতায় জানা যায়, এমন আঘাতের পর দীর্ঘ সময় শারীরিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় এবং মানসিক অবস্থাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। তিনি বলেন, ‘বাইরে থেকে আপনাকে দেখতে আগের মতোই মনে হবে, কিন্তু ভেতরের মানুষটা পুরোপুরি বদলে যায়।’
বজ্রপাতে আক্রান্ত অনেকের ক্ষেত্রে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যথা বা তাপমাত্রা অনুভব করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। কারও ক্ষেত্রে ঘাম না হওয়া, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৬ সাল থেকে বজ্রপাতে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে আর্দ্রতা বেশি এমন অঞ্চলে বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। এই ধরনের দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহায়তায় বিভিন্ন সংগঠন কাজ করছে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকৃতির এই শক্তিশালী ঘটনার সামনে মানুষ অনেকটাই অসহায়। তাই বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং সতর্কতা মেনে চলাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
সিএ/এমআর


