বাংলাদেশে জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি চালানোর খরচও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাম্পে গিয়ে তেল কম পাওয়া বা কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই গাড়িতে তেল নেওয়ার সময় কিছু বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সামান্য সতর্কতা অনেক অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।
প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে যে পাম্পের মিটার শূন্য থেকে শুরু হচ্ছে কি না। অনেক সময় দেখা যায় আগের গ্রাহকের পর মিটার পুরোপুরি রিসেট না করেই নতুন করে তেল দেওয়া শুরু করা হয়। নিজের গাড়ি থেকে নেমে নিজেই মিটার দেখুন এবং নিশ্চিত হোন এটি ০.০০ থেকে শুরু হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, গোল অঙ্কের পরিবর্তে ভিন্ন অঙ্কে জ্বালানি নেওয়া ভালো। সাধারণত ১০০, ২০০ বা ৫০০ টাকার মতো নির্দিষ্ট অঙ্কে তেল নেওয়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ১০১ বা ২০৩ টাকার মতো অঙ্কে তেল নেওয়া হলে প্রতারণার সম্ভাবনা কমে যায় এবং মিটার পর্যবেক্ষণ সহজ হয়।
তৃতীয়ত, জ্বালানি নেওয়ার সময় গাড়ির ভিতরে বসে না থেকে পাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে পুরো প্রক্রিয়া নজরে রাখা উচিত। অনেক সময় পাম্পের কর্মীরা গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলার সময় দ্রুত মিটার চালানো বা অন্য কোনো কৌশল ব্যবহার করতে পারে। আপনি যদি কাছে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাহলে এ ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
চতুর্থ বিষয় হলো পাম্পের নজল ও সিল পরীক্ষা করা। ভালো পেট্রোল পাম্পে সাধারণত সরকারি অনুমোদিত ক্যালিব্রেশন সিল থাকে। যদি নজল নোংরা বা সিল ভাঙা মনে হয়, সতর্ক থাকা উচিত। সব সময় পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য পাম্প থেকে তেল নেওয়ার চেষ্টা করা উত্তম।
সবশেষে, জ্বালানি নেওয়ার পর রসিদ সংগ্রহ করা ভালো অভ্যাস। এতে লেনদেনের পরিমাণ, সময় এবং অন্যান্য তথ্য উল্লেখ থাকে। কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে এটি প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে। প্রয়োজনে জাতীয় ভোক্তা-অভিযোগ কেন্দ্র হটলাইন ১৬১২১-এ কল করে অভিযোগ জানানো যায়।
সিএ/এমআর


