কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের মধ্যে ভারতের বিশাল আইটি ও আউটসোর্সিং খাত নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। গত তিন দশকে লাখো দক্ষ পেশাজীবীর কর্মসংস্থান তৈরি করা এই শিল্প এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের চাপে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারে দরপতন, নিয়োগে ধীরগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা সংক্রান্ত ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা কারণে ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। এর কেন্দ্রে রয়েছে এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, যা প্রচলিত আউটসোর্সিং মডেলকে বদলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতের সফটওয়্যার খাত গত সাড়ে তিন দশকে একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৈরি করেছে। বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ ও গুরুগ্রামের মতো শহরগুলোর অর্থনৈতিক বিস্তারে এই শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ আইটি কোম্পানিগুলোর শেয়ার সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এআইভিত্তিক নতুন টুল ও অটোমেশন প্রযুক্তি আইনি সহায়তা, ডেটা প্রসেসিংসহ বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারায় জনশক্তিনির্ভর পরিষেবাগুলোর ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। অনেক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে এন্ট্রি-লেভেলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চাকরি কমে যেতে পারে।
তবে শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। তাদের মতে, এআই নতুন সুযোগও তৈরি করছে। আইটি কোম্পানিগুলো এখন গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ ও বাস্তবায়নভিত্তিক সেবায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে কাজের ধরন বদলালেও শিল্পটি টিকে থাকার নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোই বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এআই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হবে। কারণ জটিল সফটওয়্যার কাঠামো তৈরি ও পরিচালনায় এখনও মানুষের দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতের আইটি খাতের মোট আয়ের একটি অংশ এসেছে এআইভিত্তিক প্রকল্প থেকে। তবে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় কমেছে এবং নিয়োগ বৃদ্ধিও সীমিত রয়েছে। একই সঙ্গে বিলিং পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে, যেখানে সময়ের বদলে কাজের ফলাফলের ভিত্তিতে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে স্বল্পমেয়াদে চাপ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এআই ও আইটি কোম্পানির মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই রূপান্তরের ধাক্কা এ শিল্পের বিভিন্ন স্তরে ইতোমধ্যে অনুভূত হচ্ছে।
সিএ/এমআর


