ডেটা নিরাপত্তা ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের টিউরিং অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন দুই গবেষক। মার্কিন পদার্থবিদ চার্লস এইচ বেনেট এবং কানাডীয় কম্পিউটার বিজ্ঞানী জিল ব্রাসার্ডকে যৌথভাবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
কম্পিউটিং জগতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি ‘কম্পিউটিংয়ের নোবেল’ হিসেবে পরিচিত। গণিতবিদ ও কোড ভাঙার পথিকৃৎ অ্যালান টিউরিংয়ের নামে প্রবর্তিত এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ১০ লাখ ডলার।
পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্পিউটিং মেশিনারি জানিয়েছে, ১৯৮৪ সালে উদ্ভাবিত কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ যোগাযোগের ধারণায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছেন এই দুই গবেষক।
বর্তমান এনক্রিপশন পদ্ধতি মূলত জটিল গাণিতিক কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হলেও ভবিষ্যতে শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার এসব নিরাপত্তা ভেঙে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বেনেট ও ব্রাসার্ডের উদ্ভাবন ভিন্ন এক সমাধান তুলে ধরে।
তাদের উদ্ভাবিত ‘বিবি৮৪’ পদ্ধতিতে এনক্রিপশন কী ভাঙার চেষ্টা করলে মৌলিক কণার আচরণ পরিবর্তিত হয়ে যায়, ফলে তা নকল করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এই দুই গবেষকের প্রথম পরিচয় হয়েছিল ১৯৭৯ সালে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে। পরবর্তীতে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সূত্র ধরেই শুরু হয় তাদের দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা।
গবেষণায় কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের ধারণা ব্যবহার করে ইলেকট্রন ও ফোটনের আচরণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিরাপদ যোগাযোগের নতুন পথ তৈরি করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপনে এই কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিএ/এমআর


