চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ার স্বপ্নে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, কৃত্রিমভাবে তৈরি চাঁদের মাটিতে সফলভাবে ছোলা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মহাকাশে খাদ্য উৎপাদনের পথ সহজ করতে পারে।
গবেষণায় চাঁদের মাটির অনুরূপ পরিবেশ তৈরি করে সেখানে নির্দিষ্ট প্রজাতির ছোলা জন্মানো হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সাফল্য মহাকাশে দীর্ঘমেয়াদি মানব বসবাসের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ—খাদ্য সরবরাহ—সমাধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
চাঁদের মাটি বা ‘রেগোলিথ’ সাধারণত অত্যন্ত রুক্ষ এবং এতে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব উপাদান কম থাকে। এমনকি এতে থাকা কিছু ভারী ধাতু উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে গবেষকরা কৃত্রিম মাটিতে ভার্মিকম্পোস্ট বা কেঁচো সার যুক্ত করেছেন, যা উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।
এছাড়া ছোলা রোপণের আগে ‘আর্বাসকুলার মাইকোরাইজা’ নামের এক ধরনের ছত্রাক ব্যবহার করা হয়েছে, যা উদ্ভিদের সঙ্গে সহাবস্থানে থেকে মাটি থেকে পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে এবং ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাব কমায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিমভাবে তৈরি চাঁদের মাটির মিশ্রণে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত রেগোলিথ থাকলেও ছোলা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। গবেষকরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে চাঁদে কৃষিকাজের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
তবে উৎপাদিত ছোলার পুষ্টিমান ও নিরাপত্তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, উদ্ভিদগুলো মাটি থেকে বিষাক্ত উপাদান শোষণ করেছে কি না, তা জানতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।
‘বায়োরিমিডিয়েশন অফ লুনার রেগোলিথ স্টিমিউল্যান্ট থ্রু মাইকোরাইজাল ফাঙ্গি অ্যান্ড প্ল্যান্ট সিম্বায়োসিস এনাবল চানা টু সি’ শিরোনামের গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে।
সিএ/এমআর


