নব্বইয়ের দশকে এক ব্যতিক্রমী গবেষণার অংশ হিসেবে মহাকাশে হাজার হাজার জেলিফিশ পাঠিয়েছিল নাসা। লক্ষ্য ছিল, ওজনশূন্য পরিবেশে প্রাণীর বৃদ্ধি এবং অভিকর্ষ বোঝার ক্ষমতা কীভাবে কাজ করে তা বিশ্লেষণ করা।
১৯৯১ সালে ‘কলম্বিয়া’ মহাকাশযানে করে প্রায় আড়াই হাজার জেলিফিশের প্রাথমিক পর্যায়ের ‘পলিপ’ মহাকাশে পাঠানো হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করেন ডরোথি স্প্যানজেনবার্গের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী। মানুষের মতো জেলিফিশও অভিকর্ষের মাধ্যমে দিক নির্ধারণ করে—এই মিল থেকেই গবেষণার ধারণা আসে।
পরীক্ষাটি প্রায় নয় দিন স্থায়ী হয় এবং এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার জেলিফিশের জন্ম ও বিকাশ ঘটে। কৃত্রিম সমুদ্রের পানি ভর্তি বিশেষ ব্যাগে তাদের রাখা হয়েছিল এবং দ্রুত বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।
জেলিফিশের শরীরে ক্যালসিয়াম সালফেটের ক্ষুদ্র ক্রিস্টাল থাকে, যা দিক নির্ধারণে সহায়তা করে। মানুষের কানের ভেতরের অংশেও অনুরূপ কাঠামো রয়েছে, যা মস্তিষ্ককে অভিকর্ষ বুঝতে সাহায্য করে। তাই বিজ্ঞানীরা জানতে চেয়েছিলেন, মহাকাশে বেড়ে ওঠা জেলিফিশের এই ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠে কি না।
পৃথিবীতে ফেরার পর দেখা যায়, মহাকাশে জন্ম নেওয়া জেলিফিশগুলো সাঁতার কাটতে সমস্যায় পড়ছে এবং তাদের শরীরে অস্বাভাবিক স্পন্দন দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ভার্টিগোর মতো উপসর্গে ভুগেছে। যদিও মহাকাশে থাকাকালে তাদের দেহে প্রয়োজনীয় গঠন তৈরি হয়েছিল, কিন্তু পৃথিবীর অভিকর্ষে ফিরে এসে তারা স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে নিতে পারেনি।
এই গবেষণা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে যদি মানুষ মহাকাশে জন্ম নেয়, তবে তাদের ক্ষেত্রেও অভিকর্ষজনিত এমন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
সিএ/এমআর


