রাতের গভীর অন্ধকারে বিড়ালের চোখ হঠাৎ জ্বলজ্বল করে ওঠে—এই দৃশ্য অনেকের কাছেই রহস্যময় মনে হয়। তবে এর পেছনে রয়েছে স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, যা মানুষের চোখের গঠন থেকে বেশ আলাদা।
১৯৩৩ সালে ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে এক কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে গাড়ি চালাতে গিয়ে পার্সি শ নামের এক ব্যক্তি হঠাৎ রাস্তার পাশে দুটি উজ্জ্বল বিন্দু দেখতে পান। সেটি ছিল একটি বিড়ালের চোখ। ওই মুহূর্তেই তিনি গাড়ি থামাতে সক্ষম হন এবং বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান। এই ঘটনাই পরবর্তীতে তাকে ক্যাটসআই রিফ্লেক্টর আবিষ্কারে অনুপ্রাণিত করে, যা এখনো সড়ক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিজ্ঞান বলছে, মানুষের চোখে রেটিনা নামে একটি অংশ থাকে, যা আলো গ্রহণ করে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। তবে মানুষের চোখে যে আলো শোষিত হয় না, তা নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বিড়ালের চোখে রয়েছে একটি বিশেষ স্তর, যার নাম ট্যাপেটাম লুসিডাম।
এই স্তরটি আয়নার মতো কাজ করে। চোখে প্রবেশ করা অতিরিক্ত আলো রেটিনা ভেদ করে এই স্তরে গিয়ে প্রতিফলিত হয়ে আবার রেটিনায় ফিরে আসে। ফলে একই আলো দুইবার ব্যবহৃত হয় এবং অন্ধকারেও পরিষ্কার দেখা সম্ভব হয়।
এই প্রতিফলিত আলোর কারণেই রাতের বেলা বিড়ালের চোখ জ্বলজ্বল করতে দেখা যায়। এটি কোনো জাদু নয়, বরং একটি প্রাকৃতিক অপটিক্যাল প্রক্রিয়া।
বিড়ালের চোখের এই বিশেষ গঠনের কারণে তারা মানুষের তুলনায় অনেক কম আলোতেও দেখতে সক্ষম। এই ক্ষমতা তাদের রাতের শিকার সহজ করে তোলে।
শুধু বিড়ালই নয়, গরু, ছাগল, ভেড়া ও ঘোড়ার চোখেও ট্যাপেটাম লুসিডাম থাকে। জলজ প্রাণীরাও কম আলোতে দেখার জন্য এই বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে। তবে মানুষের চোখে এটি অনুপস্থিত, কারণ আমরা মূলত দিনের আলোতে সক্রিয়।
বর্তমান সময়ে বিজ্ঞানীরা এই বৈশিষ্ট্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন প্রযুক্তি তৈরি করছেন। বিশেষ করে কম আলোতে কাজ করতে সক্ষম উন্নত ক্যামেরা তৈরিতে এই ধারণা ব্যবহার করা হচ্ছে।
সিএ/এমআর


