জীবনের বিকাশের সবচেয়ে মৌলিক প্রক্রিয়া হিসেবে কোষ বিভাজন দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে ব্যাখ্যা করা হয়ে আসছে। সাধারণভাবে একটি কোষ মাঝখান থেকে বিভক্ত হয়ে দুটি নতুন কোষ তৈরি করে—এটাই পাঠ্যবইয়ে শেখানো প্রচলিত ধারণা। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই পরিচিত ধারণায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
জার্মানির ড্রেসডেন ইউনিভার্সিটির ফিজিকস অব লাইফ ক্লাস্টারের একদল গবেষক দেখিয়েছেন, ডিম পাড়া প্রাণীদের বড় ভ্রূণকোষগুলো প্রচলিত নিয়মে বিভাজিত হয় না। বরং তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও জটিল একটি কৌশল অনুসরণ করে।
সাধারণ কোষ বিভাজনের সময় অ্যাকটিন প্রোটিন দিয়ে তৈরি একটি রিং কোষের মাঝখানে গঠিত হয়, যা সংকুচিত হয়ে কোষকে দুই ভাগে বিভক্ত করে। এই প্রক্রিয়াকে পার্স স্ট্রিং মডেল বলা হয়। কিন্তু বড় ভ্রূণকোষে বিশাল কুসুম থাকার কারণে এই রিং সম্পূর্ণভাবে কাজ করতে পারে না।
এই রহস্য উদঘাটনে গবেষকেরা জেব্রাফিশের ভ্রূণ নিয়ে পরীক্ষা চালান। তারা লেজার দিয়ে অ্যাকটিনের রিং কেটে দেওয়ার পরও দেখতে পান, এটি সংকুচিত হতে থাকে। এতে বোঝা যায়, রিংটি অন্য কোনো কাঠামোর সহায়তায় কাজ করছে।
পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোষের সাইটোস্কেলিটনের অংশ মাইক্রোটিবিউল এই রিংকে সমর্থন দেয়। এই মাইক্রোটিবিউলগুলো না থাকলে অ্যাকটিনের গঠন ভেঙে পড়ে। অর্থাৎ কোষ বিভাজনে এটি গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক ভূমিকা পালন করে।
এছাড়া কোষের অভ্যন্তরের সাইটোপ্লাজম কখনো শক্ত আবার কখনো তরল অবস্থায় থাকে, যা বিভাজন প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। এই প্রক্রিয়াটি অনেকটা র্যাচেট যন্ত্রের মতো কাজ করে।
গবেষকেরা বলছেন, এই নতুন আবিষ্কার কোষ বিভাজন সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে জীববিজ্ঞান শিক্ষায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সিএ/এমআর


