সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ ধারণা—পৃথিবীসহ আমাদের গ্যালাক্সি হয়তো একটি বিশাল মহাজাগতিক শূন্য অঞ্চলের মধ্যে অবস্থান করছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই; বরং এটি মহাবিশ্বের বয়স ও সম্প্রসারণের গতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
গবেষণাটি সম্প্রতি রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির এক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, বিগ ব্যাংয়ের সময় সৃষ্ট প্রাচীন শব্দতরঙ্গের নিদর্শন এই তত্ত্বকে সমর্থন করে। এই তরঙ্গগুলো মহাবিশ্বে এখনও ছাপ রেখে গেছে এবং তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, আমরা হয়তো এক বিশাল ফাঁকা অঞ্চলের মধ্যে বসবাস করছি।
বিজ্ঞানীরা জানান, ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিস্ফোরণের পর আদিম মহাবিশ্ব ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঘন প্লাজমায় পূর্ণ। সেখানে পদার্থ ও ফোটনের পারস্পরিক প্রভাবের ফলে তৈরি হয়েছিল ব্যারিওন অ্যাকুস্টিক অসিলেশন (বিএও) নামের বিশেষ ধরনের তরঙ্গ। সময়ের সঙ্গে মহাবিশ্ব ঠান্ডা হলে এই তরঙ্গ স্থির হয়ে যায়, যা এখন গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইন্দ্রনীল বণিক বলেন, এই শব্দতরঙ্গগুলো খুব অল্প সময় সক্রিয় ছিল, তবে এগুলো মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের ইতিহাস নির্ধারণে কার্যকর একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
এই গবেষণা ‘হাবল টেনশন’ নামে পরিচিত এক জটিল সমস্যার ব্যাখ্যাতেও সহায়ক হতে পারে। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের হার নির্ধারণে ভিন্ন পদ্ধতির ফলাফলের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায়, সেটিকেই হাবল টেনশন বলা হয়।
গবেষকদের মতে, যদি আমাদের গ্যালাক্সি একটি বিশাল শূন্য অঞ্চলের কেন্দ্রে অবস্থান করে, তাহলে বস্তুগুলোর দূরে সরে যাওয়ার গতি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনে হতে পারে। এতে বর্তমান মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ দ্রুত বলে প্রতীয়মান হয়।
এই তত্ত্ব অনুযায়ী, আমাদের সৌরজগৎ প্রায় এক বিলিয়ন আলোকবর্ষ বিস্তৃত একটি নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে রয়েছে, যেখানে ঘনত্ব মহাবিশ্বের গড়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম। গবেষকেরা বলছেন, এই মডেলটি প্রচলিত কসমোলজিক্যাল ধারণার বিপরীত হলেও এর গ্রহণযোগ্যতার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
ভবিষ্যতে নতুন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই তত্ত্ব আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।
সিএ/এমআর


