পৃথিবীতে যদি হঠাৎ করেই সব ধরনের প্রাণ বিলীন হয়ে যায়, তাহলে কি এই গ্রহটি আর বাসযোগ্য থাকবে—এমন প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিস্ময়কর হলেও সত্য, প্রাণ না থাকলেও পৃথিবী তার বাসযোগ্য বৈশিষ্ট্য অনেকটাই ধরে রাখতে পারত।
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের বড় একটি অংশই আসে গাছপালা ও অণুজীবের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া থেকে। ফলে প্রাণ না থাকলে অক্সিজেনের পরিমাণ অনেক কমে যেত। তবুও গ্রহটির তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডল এবং তরল পানির উপস্থিতি পুরোপুরি হারিয়ে যেত না।
গবেষকরা একটি বিশদ কম্পিউটার মডেলের মাধ্যমে প্রাণহীন পৃথিবীর সম্ভাব্য রূপ বিশ্লেষণ করেছেন। এতে দেখানো হয়েছে, গ্রহটির অভ্যন্তরীণ শীতলতা, আগ্নেয়গিরির গ্যাস নির্গমন, বায়ুমণ্ডলের গঠন এবং কার্বন চক্র—সবকিছুই জীবনের প্রভাব ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
এই মডেলটি পৃথিবীর অতীতের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডলের উপাদান ও সমুদ্রের রসায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আশ্চর্যজনক মিল পাওয়া গেছে।
গবেষণার এই ফলাফল মহাকাশে প্রাণের সন্ধানকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। বিজ্ঞানীরা এখন বুঝতে পারছেন, কোনো গ্রহে প্রাণ না থাকলেও সেটি বাসযোগ্য পরিবেশ বজায় রাখতে পারে। ফলে ভিনগ্রহে প্রাণ খোঁজার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে।
ভবিষ্যতে উন্নত টেলিস্কোপের মাধ্যমে দূরবর্তী গ্রহগুলোর বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ করে প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজা হবে। এই গবেষণা সেই কাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড তৈরি করেছে, যা বিজ্ঞানীদের প্রাণযুক্ত ও প্রাণহীন গ্রহ আলাদা করতে সহায়তা করবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই গবেষণা দেখিয়েছে যে পৃথিবীর বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরিতে প্রাণের ভূমিকা অপরিহার্য নয়। বরং উপযুক্ত পরিবেশ আগে থেকেই ছিল, যার মধ্যে প্রাণের বিকাশ ঘটেছে।
এই ধারণা অনুযায়ী, মহাবিশ্বে এমন অনেক গ্রহ থাকতে পারে, যেখানে জীবন জন্ম নেওয়ার মতো পরিবেশ রয়েছে, যদিও সেখানে এখনো প্রাণের অস্তিত্ব নাও থাকতে পারে।
সিএ/এমআর


