ডিজিটাল জগৎ প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে, যেখানে কোনো তথ্যই স্থায়ী নয়। সার্ভার সমস্যা, ডোমেইনের মেয়াদ শেষ হওয়া বা সাইবার হামলার কারণে মুহূর্তেই হারিয়ে যেতে পারে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। অতীতে এমন ঘটনাও ঘটেছে, যখন প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে বিপুল পরিমাণ ডেটা চিরতরে হারিয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ইন্টারনেট আর্কাইভ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান।
প্রায় তিন দশকের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ওয়েব ঠিকানা সংরক্ষণের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ১৯৯৬ সালে ব্রুউস্টার কেল সান ফ্রান্সিসকোতে এই আর্কাইভ প্রতিষ্ঠা করেন, যার লক্ষ্য ছিল ইন্টারনেটের পরিবর্তনের একটি স্থায়ী রেকর্ড তৈরি করা।
ইন্টারনেট আর্কাইভের অন্যতম জনপ্রিয় সেবা ওয়েব্যাক মেশিন। এই সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অতীতের কোনো ওয়েবসাইটের পুরোনো সংস্করণ দেখতে পারেন। ফলে গবেষণা, সাংবাদিকতা কিংবা সাধারণ কৌতূহল মেটাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করছে।
এই আর্কাইভে শুধু ওয়েবসাইট নয়, বিপুল পরিমাণ বই, অডিও, ভিডিও, ছবি এবং সফটওয়্যারও সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে এখানে প্রায় এক লাখ কোটি ওয়েব পেজ, ৪ কোটির বেশি বই ও টেক্সট, ১ কোটি ৫০ লাখ অডিও রেকর্ডিং, এক কোটির বেশি ভিডিও এবং লাখ লাখ ছবি ও সফটওয়্যার রাখা হয়েছে।
প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নতুন ওয়েব পেজ যুক্ত হওয়ায় এর ডেটার পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। মোট ডেটার পরিমাণ ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ পেটাবাইটে পৌঁছেছে, যা সংরক্ষণ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল।
তবে কপিরাইট ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের কারণে এই কাজ দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক বড় প্রযুক্তি ও সংবাদমাধ্যম তাদের কনটেন্ট সুরক্ষার জন্য আর্কাইভের বটগুলোকে সীমাবদ্ধ করছে। তবুও ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই আর্কাইভের কার্যক্রম বিস্তৃত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সিএ/এমআর


