শীতের রাতে আগুনের পাশে বসে রান্নার দৃশ্য অনেকেরই পরিচিত। নিচে কাঠ জ্বলছে, আর ওপরে লোহার বা অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে রান্না চলছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—কাঠ যখন আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে, তখন ঠিক তার ওপরে থাকা ধাতব হাঁড়িটি কেন পুড়ে যায় না।
বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আগুন জ্বলার জন্য তিনটি মৌলিক উপাদান প্রয়োজন—অক্সিজেন, তাপ এবং জ্বালানি। এই তিনটির সমন্বয়ে দহন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সাধারণত যেসব পদার্থ কার্বন ও হাইড্রোজেনের বন্ধনে গঠিত, সেগুলো সহজেই আগুনে পুড়ে যায়।
কাঠ মূলত সেলুলোজ দিয়ে তৈরি, যা কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অপেক্ষাকৃত দুর্বল রাসায়নিক বন্ধন। আগুনের তাপে এই বন্ধন ভেঙে গিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর শক্তি নির্গত হয়, যা আগুনের শিখা হিসেবে দেখা যায়।
অন্যদিকে, ধাতব পদার্থের রাসায়নিক বন্ধন অনেক বেশি শক্তিশালী। ফলে এগুলো সহজে ভাঙে না এবং আগুনে দহন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় না। বরং ধাতু আগুনের তাপ দ্রুত শোষণ করে এবং তা পুরো পাত্রে ছড়িয়ে দেয়। এজন্য লোহার হাঁড়ি পুড়ে না গিয়ে শুধু গরম হয়ে ওঠে।
তাপ শোষণের এই বৈশিষ্ট্যের কারণে অন্য কিছু বস্তুতেও একই প্রভাব দেখা যায়। যেমন, পানিভর্তি কাগজের কাপ আগুনে ধরালে কাগজটি সহজে পুড়ে না, কারণ তাপটি পানি শোষণ করে নেয়।
তবে সব ধাতু আগুনে অপরিবর্তিত থাকে না। কিছু ধাতু যেমন পটাশিয়াম বা টাইটানিয়াম বিশেষ অবস্থায়, বিশেষ করে গুঁড়ো আকারে, দ্রুত আগুনে জ্বলে ওঠে। আতশবাজিতে এসব ধাতুর ব্যবহার তারই উদাহরণ।
সিএ/এমআর


