কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি যথেষ্ট নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তিনি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শিশু ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের এই ধরনের এআই চ্যাটবট থেকে দূরে রাখা উচিত। তার এই মন্তব্যের পর প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
খুদে ব্লগ লেখার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইলন মাস্ক চ্যাটজিপিটির নিরাপত্তা নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মূলত অন্য এক ব্যবহারকারীর একটি পোস্ট উদ্ধৃত করে নিজের মতামত তুলে ধরেন। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, গত মাসে কানাডার টাম্বলার রিজ এলাকার একটি বিদ্যালয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার আগে হামলাকারী জেসি ভ্যান রুটসেলার চ্যাটজিপিটির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার আগের কয়েক দিন ভ্যান রুটসেলার চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথনের সময় সম্ভাব্য বন্দুক হামলার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। এসব বার্তা একটি স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্তও হয়েছিল বলে জানা যায়।
ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট পরে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে তাদের মূল্যায়নে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
এর আগেও ইলন মাস্ক দাবি করেছিলেন, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সঙ্গে একাধিক মৃত্যুর ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে। তার মতে, অন্তত ৯টি মৃত্যুর ঘটনায় এই এআই চ্যাটবটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এর মধ্যে পাঁচটি ক্ষেত্রে আত্মহত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে নিজের পোস্টে মাস্ক লিখেছিলেন, ‘আপনার প্রিয়জনদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে দেবেন না।’
মাস্কের এই মন্তব্যের জবাবে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান বলেন, এ ধরনের ঘটনা নিঃসন্দেহে মর্মান্তিক, তবে বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে অল্টম্যান পাল্টা সমালোচনা করে বলেন, মাস্কের মালিকানাধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্স এআইয়ের তৈরি চ্যাটবট গ্রোকও নানা বিতর্কের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিবেদনে টেসলার অটোপাইলট ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত দুর্ঘটনায় ৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্যও উঠে এসেছে।
সিএ/এমআর


