বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন প্রাকৃতিক খনিজ হিসেবে হীরাকে ধরা হয়। তবে চীনের একদল বিজ্ঞানী এমন একটি নতুন খনিজ তৈরির দাবি করেছেন, যা প্রচলিত কিউবিক হীরার চেয়েও বেশি শক্ত। এই নতুন পদার্থটির নাম হেক্সাগোনাল ডায়মন্ড বা হেক্সাগোনাল হীরা। বিজ্ঞানীরা একে লোনসডালেইট নামেও উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণত উল্কাপিণ্ডের আঘাতে সৃষ্ট অত্যন্ত উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রার পরিবেশে এই ধরনের হীরার অস্তিত্ব দেখা যায়। তবে প্রকৃতিতে এর উপস্থিতি এতটাই সীমিত এবং অন্যান্য খনিজের সঙ্গে মিশ্রিত অবস্থায় থাকায় এতদিন এটি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন ছিল।
সম্প্রতি নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, চীনের জেংঝু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা পরীক্ষাগারে বিশুদ্ধ হেক্সাগোনাল হীরার একটি খণ্ড তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তারা অত্যন্ত উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রার পরিবেশে পরীক্ষাটি পরিচালনা করেন।
জেংঝু বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী চংক্সিন শান বলেন, কাটিং টুলস, তাপ ব্যবস্থাপনা এবং কোয়ান্টাম সেন্সিংয়ের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই নতুন খনিজের ব্যবহার বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি অব নেভাদার খনিজ বিজ্ঞানী অলিভার শনার জানান, অতীতে অনেকেই এই পদার্থ আবিষ্কারের দাবি করলেও এবারই প্রথম এর প্রকৃত বৈশিষ্ট্য নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এই হীরা তৈরির জন্য পেনসিলে ব্যবহৃত কার্বনের মতো সুসংগঠিত গ্রাফাইট ব্যবহার করা হয়। এরপর গ্রাফাইটকে টাংস্টেন কার্বাইড অ্যানভিলের মাঝখানে রেখে প্রায় ২০ গিগাপাস্কেল চাপ প্রয়োগ করা হয়, যা বায়ুমণ্ডলীয় চাপের তুলনায় প্রায় দুই লাখ গুণ বেশি।
এ ছাড়া ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গ্রাফাইটকে সংকুচিত করে প্রায় এক মিলিমিটার আকারের হেক্সাগোনাল হীরার নমুনা তৈরি করা হয়। পরে এক্স-রে ডিফ্র্যাকশন ও ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি পরীক্ষার মাধ্যমে এর কাঠামোগত বিশুদ্ধতা যাচাই করা হয়েছে।
হেক্সাগোনাল হীরার অস্তিত্ব নিয়ে প্রায় পাঁচ দশক ধরে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক চলছিল। এর আগে উল্কাপিণ্ড বা গবেষণাগারে পাওয়া নমুনাগুলো উন্নত প্রযুক্তিতে পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলো আসলে ত্রুটিযুক্ত সাধারণ হীরা। ২০২০ দশকের শুরুর দিকে কিছু পরীক্ষায় এর উপস্থিতির আভাস মিললেও সেগুলো ছিল অতি ক্ষুদ্র ও স্বল্পস্থায়ী। নতুন এই গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বলছেন, হেক্সাগোনাল হীরা কেবল তাত্ত্বিক ধারণা নয়, বরং বাস্তবে বিদ্যমান একটি স্বতন্ত্র পদার্থ।
সিএ/এমআর


