বিশ্বজুড়ে আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির আলোচনায় নতুন করে উঠে এসেছে কামিকাজি ড্রোন। সম্প্রতি ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির খবরে এই বিশেষ ধরনের ড্রোন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প খরচে নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতার কারণে কামিকাজি ড্রোন বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ও বিধ্বংসী অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
খবরে বলা হয়েছে, ইরানে হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী কামিকাজি ড্রোন ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে এই ড্রোন ব্যবহার করা হবে কি না, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমতির ওপর। অনুমোদন না মিললে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার নাও করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাতকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশটির অন্যতম বড় যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন আরব সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার এবং তিন শতাধিক আধুনিক যুদ্ধবিমান।
এছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকেও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। এটি ইতোমধ্যে ইসরাইলের কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। তবুও সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনায় কামিকাজি ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে মার্কিন বাহিনী।
কামিকাজি শব্দটির উৎপত্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি আত্মঘাতী পাইলটদের নাম থেকে। সে সময় জাপানের পাইলটরা বিস্ফোরক বোঝাই বিমান নিয়ে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজে আছড়ে পড়তেন। সেই আত্মঘাতী কৌশল থেকেই আধুনিক এই ড্রোনের নামকরণ করা হয়েছে।
কামিকাজি ড্রোনকে সামরিক ভাষায় লোটারিং মিউনিশন বা আত্মঘাতী ড্রোন বলা হয়। এটি মূলত একটি চালকবিহীন উড়োজাহাজ, যা লক্ষ্যবস্তুর ওপর সরাসরি আছড়ে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। সাধারণ ড্রোনের মতো এটি ফিরে আসে না; বরং একমুখী মিশনে ব্যবহারের জন্যই তৈরি করা হয়।
এই ড্রোনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আকাশে দীর্ঘ সময় ধরে চক্কর দেওয়ার সক্ষমতা। লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত এটি অপেক্ষা করতে পারে এবং উপযুক্ত লক্ষ্য চিহ্নিত হলে দ্রুত আঘাত হানে। জিপিএস, বিভিন্ন সেন্সর এবং রিমোট কন্ট্রোল প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম।
বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতে ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার দেখা গেছে। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ইরানের তৈরি শহীদ-১৩৬ ড্রোনের ব্যবহার আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়েছে। গত বছর ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করেছিল বলে জানা যায়।
শুধু ইরান নয়, বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ এই প্রযুক্তি ব্যবহার বা উন্নয়নের দিকে ঝুঁকছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে শত শত কামিকাজি ড্রোন কেনার পরিকল্পনা করেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথাগত ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় কামিকাজি ড্রোন তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল। আকারে ছোট হওয়ায় অনেক সময় রাডারে শনাক্ত করা কঠিন হয়। ফলে দ্রুত ও নির্ভুল হামলার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কৌশল হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
সিএ/এমআর


