মহাকাশ গবেষণায় বহুল আলোচিত আর্টেমিস কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। আগে পরিকল্পনা ছিল, আর্টেমিস ৩ মিশনের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মানুষ চাঁদের মাটিতে পা রাখবে। তবে নতুন পরিকল্পনায় জানানো হয়েছে, এই মিশনে আর কোনো নভোচারী চাঁদে নামছেন না। পরিবর্তে পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চালানো হবে।
বর্তমানে আর্টেমিস ২ মিশন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এই অভিযানে প্রথমবারের মতো একজন কানাডীয় নভোচারী চাঁদের চারপাশে ঘুরে আসবেন। তবে সাম্প্রতিক নানা জটিলতা পুরো কর্মসূচির সময়সূচিতে প্রভাব ফেলেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মহড়ার সময় তরল হাইড্রোজেন লিকের মতো কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। একাধিকবার উৎক্ষেপণ পিছিয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস ৩ মিশনে ব্যবহৃত ওরিয়ন মহাকাশযান পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে লাইফ সাপোর্ট, প্রোপালশন এবং যোগাযোগব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি পরীক্ষা করবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক লুনার ল্যান্ডারের সঙ্গে ডকিং পরীক্ষার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি চাঁদে অবতরণের আগে পৃথিবীর কাছাকাছি থেকে এসব পরীক্ষা সম্পন্ন করা তুলনামূলক নিরাপদ।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালে আর্টেমিস ৪ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের অবতরণ ঘটবে। শুধু একবার নয়, ওই বছর দুবার চাঁদে অবতরণের চেষ্টা করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে প্রতি বছর একটি করে মিশন পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নাসা।
এদিকে কর্মীসংকটও প্রকল্পে প্রভাব ফেলেছে। ২০২৫ সালে প্রায় চার হাজার কর্মী ছাঁটাই করায় সংস্থাটির জনবল কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। নাসার নতুন প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানিয়েছেন, এখন মূল লক্ষ্য স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের আপার স্টেজকে নির্ভরযোগ্য মানদণ্ডে উন্নীত করা।
তবে এই ঘোষণায় লুনার গেটওয়ে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। চাঁদের কক্ষপথে প্রস্তাবিত এই ছোট স্পেস স্টেশন এবং কানাডার ক্যানাডার্ম৩ রোবোটিক হাত ভবিষ্যৎ মিশনে যুক্ত থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিএ/এমআর


