সাহারা মরুভূমি মানলেই চোখে ভেসে ওঠে তপ্ত সূর্য, বালিয়াড়ি আর দু-একটি মরূদ্যান। কিন্তু ১০ হাজার বছর আগে উত্তর আফ্রিকা ছিল সম্পূর্ণ সবুজ চারণভূমি। তখন এখানে ছিল হ্রদ, নদী, তৃণভূমি ও অরণ্য।
প্রত্নতত্ত্ববিদ ডেভিড রাইট বলেছেন, সাহারা মরুভূমি হওয়ার পেছনে কেবল প্রাকৃতিক কারণ নয়, মানুষের কর্মকাণ্ড ও পালিত গবাদিপশুরও বড় ভূমিকা থাকতে পারে। ফ্রন্টিয়ার্স ইন আর্থ সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় তিনি দেখিয়েছেন, মানুষের উপস্থিতি সাহারার পরিবেশগত পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করেছে।
পৃথিবীর কক্ষপথের ঘূর্ণনের কারণে সাহারায় আর্দ্রতা ও শুষ্কতার পরিবর্তন ঘটে। রাইটের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যেখানে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে গবাদিপশু পালনকারী মানুষের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, সেখানে গাছপালার ধরনে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। অতিরিক্ত পশুচারণ আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। গাছপালা যে আর্দ্রতা বাতাসে ছেড়ে মেঘ তৈরি করত, সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। তাতে সূর্যের আলো বেশি প্রতিফলিত হয় এবং বৃষ্টিপাত কমে যায়। এছাড়া মানুষ আগুন ব্যবহার করে বন পরিষ্কার করত, যা মরুভূমি তৈরি ত্বরান্বিত করেছে।
কিছু বিজ্ঞানী রাইটের তত্ত্বের সঙ্গে একমত নন। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞানী জেসিকা টিয়ার্নি মনে করেন, মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়া সাহারা মরুভূমি হতো। পৃথিবীর কক্ষপথ পরিবর্তন, ধূলিকণা ও প্রাকৃতিক ফিডব্যাক লুপ এই দ্রুত পরিবর্তনের কারণ হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা সাহারার শুকনো হ্রদগুলোর তলদেশ খনন করে প্রাচীন পরাগরেণু ও বীজ সংগ্রহ করছেন। এই তথ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সঙ্গে মিলিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে। সাহারার ইতিহাস থেকে মানুষের পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে শেখার অনেক দিক রয়েছে।
সিএ/এমআর


