কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় ডাইনোসরের পায়ের ছাপ শনাক্তে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে ডাইনোসরের পায়ের ছাপ বিশ্লেষণ আর মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করবে না।
দীর্ঘদিন ধরেই জীবাশ্মবিদরা পাথরে সংরক্ষিত ডাইনোসরের পায়ের ছাপ কোন প্রজাতির ছিল, তা নির্ধারণে নানা জটিলতার মুখে পড়েছেন। পায়ের ছাপ জীবাশ্ম হিসেবে তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেলেও, সেগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট কঙ্কাল বা হাড়ের মিল পাওয়া অত্যন্ত বিরল। ফলে অনুমানভিত্তিক বিশ্লেষণের ওপরই নির্ভর করতে হতো গবেষকদের।
নতুন গবেষণায় একটি বিশেষ এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়েছে, যা একটি পায়ের ছাপের আটটি আলাদা বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। এর মধ্যে রয়েছে পায়ের সামগ্রিক আকৃতি, আঙুলের বিস্তার, গোড়ালির অবস্থান এবং হাঁটার সময় শরীরের ওজন বণ্টনের ধরন। এসব সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে এআই প্রযুক্তি বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে পার্থক্য নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে।
গবেষকদের মতে, মানুষের চোখে ধরা না পড়া পার্থক্যগুলো এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে গবেষণায় ব্যক্তিগত মতামত বা ভুলের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া প্রায় ২১ কোটি বছরের পুরোনো কিছু পায়ের ছাপ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছেন। তিন আঙুলের ছোট আকারের এসব ছাপ আধুনিক পাখির পায়ের ছাপের সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মিলে গেছে। গবেষকদের ধারণা, এর ফলে ডাইনোসর থেকে পাখির বিবর্তন ইতিহাস নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হবে।
ডাইনোসরের হাড় বা দাঁতের তুলনায় পায়ের ছাপ প্রকৃতিতে বেশি পাওয়া যায়। তাই এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সংরক্ষিত হাজার হাজার পায়ের ছাপ পুনরায় বিশ্লেষণের পরিকল্পনা করছেন গবেষকরা। এর মাধ্যমে প্রাগৈতিহাসিক যুগে ডাইনোসরদের চলাফেরা, আচরণ ও পরিবেশ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
সিএ/এমআর


