কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যে দ্রুতগতিতে বিকাশ করছে, তা নিয়েই বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন জাগছে। কোনো এআই সিস্টেমের প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা কীভাবে পরিমাপ করা হবে, তা জানতে গ্যালিলিও টেস্টের কথা উল্লেখ করা হয়। স্পেসএক্স ও এক্সএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক মাঝে মাঝে এই পরীক্ষার আলোচনা করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি এক ভিডিও বার্তায় জানান, এআই সিস্টেমের সক্ষমতা এমন হওয়া উচিত যে তা অপ্রিয় হলেও সত্য বলতে পারে এবং গ্যালিলিও টেস্টে উত্তীর্ণ হতে পারে।
গ্যালিলিও টেস্টের নামকরণ করা হয়েছে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলির নামে। সপ্তদশ শতাব্দীতে তিনি সূর্যকে সৌরজগতের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা তখনকার প্রচলিত মতের বিপরীত ছিল। এই মতের জন্য তাকে কারাবরণও করতে হয়েছিল। গ্যালিলিও এই বৈজ্ঞানিক সত্য থেকে বিচ্যুত হননি।
টেস্টের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে, কোনো এআই কেবল তথ্য বিশ্লেষণ করবে না, বরং মানুষের সাহায্য ছাড়া নতুন মৌলিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বা ধারণা তৈরি করতে পারবে কি না। এআইকে এমন ধারণা দিতে হবে যা বিদ্যমান জ্ঞানের সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং যৌক্তিক ও তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা থাকতে হবে। এছাড়া ধারণাটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আওতায় হতে হবে, যাতে অন্য বিজ্ঞানীরা যাচাই বা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
বর্তমানে ব্যবহৃত এআই মূলত বিদ্যমান তথ্য বিশ্লেষণ করে উত্তর দেয়। গ্যালিলিও টেস্টে উত্তীর্ণ হলে এআই মানুষের মতো সৃজনশীল চিন্তা করতে সক্ষম হবে। মাস্ক চান, এআই যেন সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য উত্তর না দিয়ে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করে। সৃজনশীলতার জন্য কেবল ডেটা প্রসেসিং যথেষ্ট নয়; গভীর বিশ্লেষণ ও নতুন সমাধানের কল্পনা প্রয়োজন। এই পরীক্ষায় সফল হলে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, দর্শন এবং শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
সিএ/এমআর


