শহরের ব্যস্ততা, যানজট এবং ইটপাথরের অজস্র দেয়ালের মধ্যে জীবন কাটানোর পর মানুষ স্বপ্ন দেখে একটুকরা সবুজের। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সবাই সাহস পায় না। আসাদুজ্জামান পেরেছেন। শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই উদ্যোক্তা আজ শুধু একজন সন্তানের মা-বাবার সন্তান নয়; তিনি সফল স্বপ্নদ্রষ্টা ও উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত।
শূন্য থেকে শুরু
২০১৫ সালে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে পড়াকালীনই আসাদুজ্জামান ভাবছিলেন—নিজে কিছু করতে হবে। হাতে টাকাপয়সা কম, বুকে ছিল অদম্য জেদ। সেই জেদই তাকে টিউশন ও ই-কমার্স চাকরির মাধ্যমে দুই লাখ টাকা জমিয়ে জীবনের বড় পরীক্ষা নিতে প্রেরণা দেয়।
অনেকে এসি রুমে বসে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করলেও, আসাদুজ্জামান তখন রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ব্যবসার বাজার খুঁটিয়ে দেখতেন। কোন পণ্য কোথা থেকে আসছে, পাইকারি দর কত—সবকিছু তিনি সরাসরি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে যাচাই করতেন।
মাঠ থেকে ঘাটাইলের পথে
২০১৮ সালে নিজের গ্রামে মাত্র এক হাজার ব্রয়লার মুরগি এবং ছোট একটি পুকুরে মাছ চাষ দিয়ে যাত্রা শুরু। লক্ষ্য বড় ছিল—ঢাকার কাছে এমন খামার গড়ে তোলা। বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি বেছে নিলেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল।
২০২২ সালে ১৩ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে ‘আমার খামার’ শুরু হয়। বন্ধু সাব্বির হাসানের সঙ্গে ১,২০০ লেয়ার মুরগি দিয়ে শুরু করা খামার আজ ২৫ হাজার মুরগি পালন করছে। প্রতিদিন এই ডিমগুলো নিজস্ব পরিবহনেই ঢাকার বড় আড়ত ও দোকানে পৌঁছে।
কেবল খামার নয়, একটুকরা গ্রাম
মুরগির ডিম ছাড়াও খামারের কাজ এখন বিস্তৃত। টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহে ১,৮০০ পেঁপে গাছ এবং সাড়ে চার হাজার কলার বাগান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা থেকে যশোর—দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মৌসুমি ফসলের প্রকল্প ছড়িয়ে আছে। বর্তমানে ৩২ জন কর্মী দিনরাত খাটছেন এই স্বপ্ন সচল রাখতে।
কৃষকের বন্ধু
আসাদুজ্জামান প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্মার্ট ফার্মিং চালু করেছেন। প্রান্তিক কৃষকরা ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ফসলের রোগবালাই বা বাজারদর সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য পাচ্ছেন। ২০২৭ সালের মধ্যে পাঁচ লাখ কৃষককে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করছেন। সম্প্রতি কৃষকের সন্তানের জন্য শিক্ষাবৃত্তিও চালু করেছেন।
আগামী দিনের স্বপ্ন: অ্যাগ্রি রিসোর্ট
২০২৬ সালে তিনি ‘আমার খামার গ্রামীণ অ্যাগ্রি রিসোর্ট’ চালু করবেন। এটি শুধুই বিলাসী অবকাশকেন্দ্র নয়; শহরের মানুষ এখানে এসে নিজ হাতে কৃষিকাজ শিখবে, মাটির ঘ্রাণ অনুভব করবে এবং প্রকৃতির সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে।
সিএ/এমআর


