ভিডিওভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক ব্যবহারকারীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে—এ বিষয়টি অনেকেরই জানা। তবে সাম্প্রতিক অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, টিকটকের তথ্য সংগ্রহ কেবল অ্যাপ ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবহারকারী টিকটক ব্যবহার না করলেও ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তাঁর অনলাইন গতিবিধি অনুসরণ করতে পারে এই প্ল্যাটফর্ম। এমনকি যাঁদের কখনো টিকটক অ্যাকাউন্ট খোলার অভিজ্ঞতা নেই, তাঁদের সম্পর্কেও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে।
সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ক্যানসার–সংক্রান্ত অনুসন্ধান, প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য সংকট–সংক্রান্ত ডেটা টিকটকের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকটকের এই তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা এখন একটি বিস্তৃত নজরদারি নেটওয়ার্কে পরিণত হচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়িয়ে পুরো ওয়েবজুড়ে বিস্তার লাভ করছে।
এই নজরদারির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টিকটকের ‘পিক্সেল’ নামের একটি ট্র্যাকিং প্রযুক্তি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের ওয়েবসাইটে এই কোড যুক্ত করে ব্যবহারকারীদের অনলাইন আচরণ পর্যবেক্ষণ করে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপনকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক করা হয়। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ডিসকানেক্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, টিকটকের পিক্সেল প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় বেশি তথ্য সংগ্রহ করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা প্যাট্রিক জ্যাকসন এই ব্যবস্থাকে অত্যন্ত অনধিকারচর্চামূলক বলে মন্তব্য করেছেন।
একটি উদাহরণ তুলে ধরে জানানো হয়, একজন সাংবাদিক ক্যানসার রোগীদের সহায়তা সংস্থার একটি ওয়েবসাইটে ফরম পূরণ করার সময় নিজেকে রোগী বা সুস্থ হওয়া ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করলে সেই তথ্য ই–মেইল ঠিকানাসহ টিকটকের কাছে পৌঁছে যায়। এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আচরণ বিশ্লেষণ, রাজনৈতিক প্রচারণা কিংবা মূল্যবৈষম্যের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
টিকটকের দাবি, ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নীতিমালার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি জানানো হয় এবং প্রয়োজনীয় সেটিংসের মাধ্যমে তথ্য নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে। তবে ডাকডাকগোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ওয়েবসাইটগুলোর প্রায় ৫ শতাংশে টিকটকের ট্র্যাকার সক্রিয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী গোপনীয়তা আইন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ছাড়া এই নজরদারি প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
সিএ/এমআর


