বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে অনলাইন ডেটিং অ্যাপের বাজার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভালোবাসা বা সঙ্গী খুঁজতে এখন বিপুলসংখ্যক মানুষ অ্যাপ স্টোর ও প্লে স্টোরে থাকা ডেটিং অ্যাপের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে ২০১৩ সালে টিন্ডার রাইট সোয়াইপ ও লেফট সোয়াইপ পদ্ধতি চালুর পর অনলাইন ডেটিংয়ের ধরণ আমূল বদলে যায়। হাজারো প্রোফাইল ঘেঁটে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জটিলতা কমে আসে, কয়েকটি ছবির মাধ্যমেই পছন্দ–অপছন্দের সুযোগ তৈরি হয়।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গত এক দশকে ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। ২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশিত ডেটা বিশ্লেষক ডেভিড কারির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী ডেটিং অ্যাপ বাজার থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৬১৮ কোটি ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলার এসেছে ম্যাচ গ্রুপের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করছেন, যার মধ্যে প্রায় ২ দশমিক ৫ কোটি ব্যবহারকারী প্রিমিয়াম সংস্করণের জন্য অর্থ ব্যয় করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে টিন্ডারের আধিপত্য দীর্ঘদিনের হলেও ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকায় বাডু শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। বাডুর প্রতিষ্ঠাতা আন্দ্রে আন্দ্রেইভ ও টিন্ডারের সহপ্রতিষ্ঠাতা হুইটনি উলফ হার্ডের উদ্যোগে ২০১৪ সালে বাম্বল যাত্রা শুরু করে। নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম বার্তা পাঠানোর সুযোগ দেওয়ায় উত্তর আমেরিকায় বাম্বল টিন্ডারের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। তবে বিশ্বব্যাপী ডাউনলোডের দিক থেকে এখনো টিন্ডার শীর্ষে রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্ষণস্থায়ী সম্পর্কের বদলে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের প্রতি ব্যবহারকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে হিঞ্জ তাদের প্ল্যাটফর্মে বড় পরিবর্তন আনে। দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া এই অ্যাপ ইতিমধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে এখন ব্যবহারকারীরা নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষাকে অ্যালগরিদমের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি ডেটিং অ্যাপগুলো গেম, কুইজ ও সামাজিক ফিচারের দিকে ঝুঁকছে, যেখানে মানুষ শুধু সঙ্গী নয়, ডিজিটাল কমিউনিটির অংশ হতে চায়।
সিএ/এমআর


