বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার আনন্দ অনেকেরই থাকে, কিন্তু বাংলাদেশের শহরগুলোতে আর এটি সহজ নয়। বিশেষ করে ঢাকা শহর বিশ্বের অন্যতম বায়ুদূষিত শহর হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে মানুষ ফুসফুসে নেয় লাখ লাখ অদৃশ্য কণা—ধুলোবালি, ধোঁয়া, ভাইরাসের কণা এবং প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র অংশ। এদের মধ্যে কিছু কণা এতই ছোট যে সেগুলো সরাসরি ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে, এমনকি রক্তে ছড়িয়ে হার্টের অসুখ, স্ট্রোক বা ক্যানসারের মতো গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরে এই ক্ষুদ্র কণাগুলোর গতিবিধি বোঝার চেষ্টা করেছেন। তবে প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো সমস্যা হলো, কণাগুলোকে গোলকের মতো ধরে অঙ্ক করার কারণে প্রকৃত গতিবিধি বোঝা যায়নি। যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডানকান লকারবি এবং তার দল এই সমস্যার সমাধান করেছেন। তারা ১৯১০ সালের কানিংহামের সূত্র পুনঃব্যবহার করে এবং কারেকশন টেনসর নামে একটি গাণিতিক টুল ব্যবহার করে দেখিয়েছেন, কণার আকার যেকোনো হোক না কেন তার গতিবিধি নির্ভুলভাবে মাপা সম্ভব।
এই আবিষ্কারের ফলে বিজ্ঞানীরা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন শহরের ধোঁয়া বা কলকারখানার বিষাক্ত কণা কীভাবে ছড়ায়, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাস কীভাবে সংক্রমণ ঘটায় এবং ন্যানো-টেকনোলজি ভিত্তিক ওষুধ কীভাবে ফুসফুসের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাবে।
সিএ/এমআর


