সাইবারজগতে প্রতারণার কৌশল দিন দিন আরও জটিল ও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। অনলাইন পার্টটাইম কাজের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন দেশের অসংখ্য মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে এমনই এক স্ক্যাম চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন একটি শীর্ষস্থানীয় গ্রুপ অব কোম্পানির হিসাব শাখার ডেপুটি ম্যানেজার মো. মাসুদ।
রাজবাড়ীতে কর্মরত মাসুদের সঙ্গে গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে ফেসবুকে ‘বায়রা রিক্রুটিং এজেন্সি’ নামের একটি পেজ থেকে যোগাযোগ করা হয়। অনলাইনে পার্টটাইম কাজ করে আয় করার প্রস্তাবে আগ্রহ দেখালে তাকে টেলিগ্রামের একটি লিংক পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, বিদেশি সিনেমার রেটিং, লাইক ও কমেন্টের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ রয়েছে এবং লাভের একটি অংশ তাকে দেওয়া হবে।
শুরুতে কাজের বিনিময়ে অল্প অঙ্কের টাকা বিকাশে পাঠিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে প্রতারকরা। এরপর ধাপে ধাপে কাজের শর্তে টাকা জমা দেওয়ার কথা বলা হয়। কাজের সঙ্গে সঙ্গে আয় ও জমার অঙ্কও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মাসুদ বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হারান। লভ্যাংশ দেখানো হয় কোটি টাকার বেশি, কিন্তু সেই টাকা তুলতে আরও অর্থ জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হলে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
এ ঘটনায় মাসুদ রাজধানীর বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং সিআইডিতে অভিযোগ দেন। তদন্তে জানা যায়, ওই রিক্রুটিং এজেন্সিটি ছিল ভুয়া নাম।
শুধু মাসুদ নন, প্রতিদিনই এ ধরনের সাইবার স্ক্যামিংয়ের শিকার হচ্ছেন অসংখ্য বাংলাদেশি। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে পরিচালিত স্ক্যাম সেন্টারগুলো অনলাইন কাজ, গিফট ভাউচার, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ব্যবসায়িক রিভিউয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
সিআইডি সূত্র জানায়, এসব স্ক্যামিংয়ে ব্যবহৃত অনেক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভুয়া বা জাল পরিচয়ে খোলা। টাকা জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও লাওসের স্ক্যাম সেন্টারে নিয়োগ করা হচ্ছে। সেখানে জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কাজে যুক্ত করা হচ্ছে তাদের।
সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার ও কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, স্ক্যাম সেন্টারে কাজ না করলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশে যাওয়ার আগে চাকরির প্রস্তাব ও নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে অনলাইন কাজ বা উচ্চ আয়ের প্রলোভনে সতর্ক না হলে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে।
সিএ/এমআর


