ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। বাড়ির বাইরে বের হলে অনেকেই ক্যাফে, হোটেল, শপিং মল কিংবা বিমানবন্দরের ফ্রি বা পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করে থাকেন। তবে এই উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক সবসময় নিরাপদ কি না, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য পাবলিক ও প্রাইভেট ওয়াইফাইয়ের পার্থক্য জানা জরুরি বলে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট স্যামমোবাইল।
পাবলিক ওয়াইফাই এমন একটি নেটওয়ার্ক, যা সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং সাধারণত কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়াই সংযোগ দেওয়া যায়। রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, লাইব্রেরি, বিমানবন্দর ও হোটেলে এ ধরনের নেটওয়ার্ক বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে প্রাইভেট ওয়াইফাই ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড প্রয়োজন হয় এবং এটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকে, যেমন বাসা বা অফিসের রাউটার।
এই দুই ধরনের ওয়াইফাইয়ের মূল পার্থক্য নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তায়। পাবলিক নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারীর সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, ফলে নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে। বিপরীতে প্রাইভেট নেটওয়ার্কে এনক্রিপশন, ফায়ারওয়াল, ব্যবহারকারী নিয়ন্ত্রণসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।
নেটওয়ার্কের গঠনগত দিক থেকেও পার্থক্য স্পষ্ট। পাবলিক ওয়াইফাইয়ে নির্দিষ্ট ব্যান্ডউইথ অনেক ব্যবহারকারীর মধ্যে ভাগ হয়ে যায়, ফলে ভিড়ের সময় ইন্টারনেট ধীর হয়ে পড়ে। প্রাইভেট নেটওয়ার্কে মালিক নিজেই গতি ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডিভাইসকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন।
নিরাপদ ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে নেটওয়ার্কের নামের পাশে তালা চিহ্ন, পাসওয়ার্ডের প্রয়োজনীয়তা এবং ডব্লিউপিএ২ বা ডব্লিউপিএ৩ এনক্রিপশন আছে কি না তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারকালে ব্যাংকিং, অনলাইন কেনাকাটা বা সংবেদনশীল অ্যাকাউন্টে লগইন না করাই নিরাপদ।
সিএ/এমআর


