আপেক্ষিকতার জনক অ্যালবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন তীব্র প্রতিভাধর, কিন্তু তবুও তিনি মানুষের মতোই ভুল করেছিলেন। তার নিজের তত্ত্বগুলো নিয়ে কখনও কখনও তিনি আত্মবিশ্বাসের অভাব বোধ করতেন। সাম্প্রতিক ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তিনটি ক্ষেত্রে তার তত্ত্বে উল্লেখযোগ্য ভুল ছিল।
আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব নিয়ে ১৯১৭ সালে তার গবেষণাপত্রে তিনি মহাবিশ্বের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে “মহাজাগতিক ধ্রুবক” প্রবর্তন করেছিলেন। তখন বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন মহাবিশ্ব স্থির। পরবর্তীতে জানা যায় মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে। পদার্থবিদ জর্জ গ্যামো উল্লেখ করেছেন, আইনস্টাইন পরবর্তীতে নিজেকে বলেছিলেন, “মহাজাগতিক ধ্রুবক প্রবর্তন ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।”
তবে আধুনিক গবেষণা বলছে, মহাজাগতিক ধ্রুবকটি আসলে অন্ধকার শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। যদি তা সত্যি হয়, তবে আইনস্টাইনের তত্ত্বের মূল ধারণা খারাপ হয়নি।
আরেকটি উদাহরণ হলো মহাকর্ষীয় লেন্সিং। আইনস্টাইন প্রথমে ভাবেছিলেন এটি খুব ক্ষুদ্র প্রভাব ফেলবে। তবে ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের মাধ্যমে জানা যায়, দূরবর্তী ছায়াপথের আলো বিশাল মহাকর্ষীয় বস্তুর কারণে বাঁকানো সম্ভব। আজ নাসা ও হাবল টেলিস্কোপের মাধ্যমে এ প্রভাবের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করা যায়।
আইনস্টাইনের কোয়ান্টাম মেকানিক্স সম্পর্কিত চিন্তাভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ১৯৩৫ সালে এক গবেষণাপত্রে যুক্তি দিয়েছিলেন, দুটি সংযুক্ত বস্তু একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে, যদিও দূরবর্তী। এটি আজকে কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গলমেন্টের ভিত্তি।
আইনস্টাইনের তত্ত্বগুলোতে যে ছোটখাটো ভুল ছিল, সেগুলোও তার অসাধারণ প্রতিভার প্রমাণ।
সিএ/এমআর


