কম্পিউটার বা স্মার্টফোন হঠাৎ হ্যাং হয়ে গেলে বেশিরভাগ মানুষই রিস্টার্ট দেন। অর্থাৎ ডিভাইসটি বন্ধ করে আবার চালু করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অধিকাংশ সময় এতে সমস্যার সমাধান হয়ে যায় এবং ডিভাইস আবার স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু করে। এর পেছনে রয়েছে মেমোরি ব্যবস্থাপনা, সফটওয়্যার লজিক, ড্রাইভার রিফ্রেশ এবং হার্ডওয়্যার রিসেটের মতো একাধিক বৈজ্ঞানিক কারণ।
ডিভাইসের সব অস্থায়ী ডেটা জমা থাকে র্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরিতে বা র্যামে। অনেক সফটওয়্যার ঠিকভাবে ডিজাইন করা না হওয়ায় কাজ শেষ হওয়ার পরও র্যামের জায়গা দখল করে রাখে। একে বলা হয় মেমোরি লিক। রিস্টার্ট দিলে র্যামে বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং সব অস্থায়ী ডেটা মুছে যায়। ফলে মেমোরি আবার খালি হয়ে সতেজ অবস্থায় ফিরে আসে।
ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো স্টেট ভিত্তিক মেশিন হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট ধাপ ও লজিক অনুসরণ করে এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় যায়। কাজ করতে করতে কোনো প্রোগ্রাম এমন একটি অবস্থায় পৌঁছাতে পারে, যার জন্য কোনো নির্দেশনা লেখা নেই। তখন সফটওয়্যার বা পুরো সিস্টেম স্থবির হয়ে যায়। রিস্টার্ট দিলে সেই প্রোগ্রাম আবার শুরুর ধাপ থেকে শুরু করে এবং ত্রুটিপূর্ণ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে।
হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে যোগাযোগের কাজ করে ড্রাইভার। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে কখনো কখনো ড্রাইভার ক্র্যাশ করে বা সঠিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এতে স্ক্রিন ফ্রিজ হওয়া বা ইনপুট কাজ না করার মতো সমস্যা দেখা দেয়। রিস্টার্টের সময় কম্পিউটার নতুন করে হার্ডওয়্যার পরীক্ষা করে এবং ড্রাইভারগুলো পুনরায় লোড করে, ফলে সংযোগ আবার স্বাভাবিক হয়।
অনেক সময় কোনো অ্যাপ বন্ধ করার পরও সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এবং প্রসেসরের শক্তি ব্যবহার করে। এগুলোকে বলা হয় জম্বি প্রসেস। সাধারণভাবে এগুলো ধরা না পড়লেও রিস্টার্ট দিলে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রসেস বন্ধ হয়ে যায়। এতে সিস্টেমের গতি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
কখনো কখনো সাধারণ রিস্টার্টেও সমস্যা সমাধান হয় না। তখন হার্ড রিসেট বা পাওয়ার সাইক্লিং কার্যকর হতে পারে। আধুনিক ডিভাইস বন্ধ থাকলেও ভেতরের ক্যাপাসিটরে সামান্য বিদ্যুৎ জমা থাকে, যা কিছু ত্রুটি ধরে রাখতে পারে। প্লাগ খুলে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড অপেক্ষা করলে এই বিদ্যুৎ পুরোপুরি নিঃশেষ হয় এবং নেটওয়ার্ক বা আইপি সংক্রান্ত সমস্যাও দূর হতে পারে।
বিরল ক্ষেত্রে মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাবে প্রসেসরের কোনো বিটের মান বদলে যেতে পারে, যাকে সিঙ্গেল ইভেন্ট আপসেট বলা হয়। এতে সিস্টেমে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিতে পারে। রিস্টার্ট দিলে এসব বিট আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এ ছাড়া রিস্টার্টের সময় হার্ডওয়্যার কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ পায় এবং অপেক্ষমাণ আপডেটও ইনস্টল হতে পারে। সব মিলিয়ে রিস্টার্ট অনেক প্রযুক্তিগত সমস্যার দ্রুত সমাধান এনে দেয়।
সিএ/এমআর


