শীতকালে গরম পানির প্রয়োজনীয়তা অনেক বেড়ে যায়। তবে এই আরামের সঙ্গে যুক্ত বিদ্যুৎ খরচ সম্পর্কে অনেকেই সচেতন নন। গিজার এমন একটি যন্ত্র, যা বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবহারের বড় অংশ দখল করে। সঠিক হিসাব জানলে সহজেই মাসিক খরচ অনুমান করা সম্ভব।
গিজারের বিদ্যুৎ খরচ নির্ভর করে মূলত এর ওয়াটেজ এবং দৈনিক ব্যবহারের সময়ের ওপর। সাধারণভাবে গিজারের ওয়াটেজ ৫০০ থেকে ৫০০০ ওয়াটের মধ্যে হয়ে থাকে। বেশিরভাগ বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত গিজার ১০০০ থেকে ২০০০ ওয়াট ক্ষমতার হয়। ইনস্ট্যান্ট গিজারে সাধারণত ওয়াটেজ বেশি থাকে এবং স্টোরেজ গিজারে তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব করতে ব্যবহার করা যায় সহজ একটি সূত্র। ব্যবহৃত শক্তি কিলোওয়াট আওয়ার সমান পাওয়ার রেটিং কিলোওয়াটে গুণিতক ব্যবহারের সময় ঘণ্টায়। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, একটি গিজারের ক্ষমতা ২০০০ ওয়াট অর্থাৎ ২ কিলোওয়াট এবং এটি প্রতিদিন ২ ঘণ্টা চলে। তাহলে দৈনিক বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে ৪ কিলোওয়াট আওয়ার এবং মাসে হবে প্রায় ১২০ কিলোওয়াট আওয়ার। যদি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ধরা হয়, তাহলে মাসিক খরচ দাঁড়াবে আনুমানিক ৮৪০ টাকা।
ইনস্ট্যান্ট গিজার তাৎক্ষণিকভাবে অল্প পরিমাণ পানি গরম করে এবং ছোট পরিবারের জন্য উপযোগী হলেও বেশি ওয়াটের কারণে বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। অন্যদিকে স্টোরেজ গিজার বড় ট্যাঙ্কে পানি জমা রাখে এবং একাধিক ব্যবহারকারীর জন্য উপযোগী। এই ধরনের গিজারে বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক কম হতে পারে।
গিজারের বিদ্যুৎ খরচে প্রভাব ফেলে ওয়াটেজ, ব্যবহারের সময়কাল, ট্যাঙ্কের আকার, পানির প্রাথমিক তাপমাত্রা, থার্মোস্ট্যাট সেটিং, ইনসুলেশন এবং রক্ষণাবেক্ষণ। অতিরিক্ত তাপমাত্রা সেটিং বা দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে খরচ বাড়ে। নিয়মিত পরিষ্কার ও সঠিক সেটিং বজায় রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।
সিএ/এমআর


