বর্তমান সময়ে ইয়ারবাড আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। যাতায়াত, কাজ, শরীরচর্চা বা ঘুমের আগে স্ক্রল—প্রায় সব ক্ষেত্রে ইয়ারবাড ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কতক্ষণ এবং কত ভলিউমে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেদিকে অনেকেই মনোযোগ দেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ ভলিউমে ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলে স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ (টিনিটাস) দেখা দিতে পারে।
ইয়ারবাড সরাসরি কানের পর্দায় শব্দ পাঠায়, তাই সাধারণ স্পিকার ব্যবহারের তুলনায় বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে বেশি ভলিউমে ব্যবহার করলে কানের ভেতরের হেয়ার সেল বা শ্রবণ কোষ ধ্বংস হয়। এই কোষ একবার নষ্ট হলে পুনরায় তৈরি হয় না। ফলে শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে কমে যায় এবং ভিড়ের মধ্যে কথোপকথন বোঝা কঠিন হয়ে যায়।
শুধু শ্রবণই নয়, ইয়ারবাডের অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। দীর্ঘক্ষণ শব্দ শোনার ফলে মস্তিষ্ক সব সময় সজাগ থাকে। এতে মানসিক চাপ, ক্লান্তি, বিরক্তি এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করান, মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সময়মতো নীরবতা গ্রহণ করাও জরুরি।
ইয়ারবাড ব্যবহার সংক্রান্ত অন্য একটি ঝুঁকি হলো সংক্রমণ। দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে কানের ভেতরে তাপ ও আর্দ্রতা জমে, যা ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এর ফলে কানে ময়লা জমা, জ্বালা, কানের বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বারবার সংক্রমণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন ৬০/৬০ নিয়ম মেনে চলতে। অর্থাৎ একটানা ৬০ মিনিটের বেশি ব্যবহার না করা এবং ভলিউম সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশের মধ্যে রাখা নিরাপদ। এই নিয়ম অনুসরণ করলে কানের স্বাস্থ্য রক্ষা সম্ভব এবং দীর্ঘমেয়াদি শ্রবণ সমস্যা এড়ানো যায়।
সিএ/এমআর


