সন্তানের জন্য সুন্দর ও অর্থবহ নাম নির্বাচনকে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে উম্মতকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি যেমন ভালো নাম বাছাইয়ের উৎসাহ দিয়েছেন, তেমনি মন্দ ও অসুন্দর নাম রাখা থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। বাস্তব জীবনে অসুন্দর নাম পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রাখার মাধ্যমে তিনি নিজেই এর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
ইসলামে সুন্দর নাম রাখার গুরুত্বের আরেকটি বড় কারণ হলো হাশরের ময়দান। সেদিন পূর্বাপর সব মানুষ একত্রিত হবে এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নিজের নাম ও তার বাবার নামসহ ডাকা হবে। এ বিষয়ে হজরত আবুদ দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِنّكُمْ تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ، وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ، فَأَحْسِنُوا أَسْمَاءَكُمْ
অর্থ: কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের ও তোমাদের বাবার নাম নিয়ে (অর্থাৎ এভাবে ডাকা হবে—অমুকের ছেলে অমুক)। তাই তোমরা নিজেদের জন্য সুন্দর নাম রাখ।
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, নাম শুধু পার্থিব পরিচয়ের জন্য নয়, বরং আখিরাতের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
একই সঙ্গে একজন মুসলিমের সঙ্গে আরেকজন মুসলিমের পারস্পরিক পরিচয় ও নাম জানা ঈমানি ভালোবাসা এবং ভ্রাতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এজন্য এমন নাম রাখা উচিত নয়, যা উচ্চারণে অস্বস্তিকর বা বলতে লজ্জাবোধ হয়। ইয়াযীদ ইবনে নাআমা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِذَا آخَى الرّجُلُ الرّجُلَ فَلْيَسْأَلْهُ عَنْ اسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ وَمِمّنْ هُوَ، فَإِنّهُ أَوْصَلُ لِلْمَوَدّةِ
অর্থ: কেউ যখন অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তুলতে চায়, তখন সে যেন তার নাম, তার বাবার নাম ও বংশের কথা জিজ্ঞেস করে। এতে পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধন আরও গভীর হয়।
উপরের রেওয়ায়েতসমূহ থেকে প্রতীয়মান হয়, সন্তানের সুন্দর নাম রাখা পিতা-মাতার অবশ্যকর্তব্য এবং এটি সন্তানের প্রতি মা-বাবার প্রথম অধিকার। কখনো কোনো কারণে যদি মন্দ বা অসুন্দর নাম রাখা হয়ে যায়, তাহলে তা পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রাখা উচিত। এটিই নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত।
সূত্র: আবু দাউদ, তিরমিজি
সিএ/এসএ


