আল্লাহর রাস্তায় পাহারাদারি বা রিবাত ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। এটি শুধু সামরিক দায়িত্ব নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহৎ মাধ্যম। কোরআন ও হাদিসে এই ইবাদতের গুরুত্ব ও মর্যাদা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহর পথে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তির জন্য রয়েছে অসংখ্য সওয়াব ও পরকালে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা।
রিবাতের ফজিলত সম্পর্কে হজরত ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে একটি প্রসিদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘জাহান্নামের আগুন দুটি চোখকে কখনো স্পর্শ করবে না। একটি হলো সেই চোখ, যা আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে। আর দ্বিতীয়টি হলো সেই চোখ, যা আল্লাহর রাস্তায় (নিরাপত্তার জন্য) পাহারা দিয়ে নিদ্রাহীন রাত পার করে দেয়।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১৬৩৯)।
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়, আল্লাহর পথে পাহারাদারি জান্নাত লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এবং এর মাধ্যমে কঠিন আজাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) এই ইবাদতকে গনিমত হিসেবে গ্রহণ করতেন এবং এর জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও পিছপা হতেন না।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে আল্লাহর পথে পাহারাদারি করতে গিয়ে এমন এক সাহাবি উম্মাহর সামনে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, যিনি তীরবিদ্ধ হয়েও নামাজ ত্যাগ করেননি। তাঁর ঘটনা সাহাবিদের ঈমানি দৃঢ়তা ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার উজ্জ্বল প্রমাণ।
জাবির বিন আব্দুল্লাহ আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে নাজদের দিকে বের হলাম। পথিমধ্যে আমরা এক মুশরিকের বাড়ির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। ওই সময় তার স্ত্রী নিহত হয়। পরে রাসুলুল্লাহ (সা.) আবার সেই পথেই ফিরে এলেন। কিছু সময় পর নিহত নারীর স্বামী ফিরে এসে ঘটনার কথা জানতে পারে। তখন সে কসম করে বলে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো একজন সাহাবির রক্তপাত না ঘটানো পর্যন্ত সে ক্ষান্ত হবে না।
এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) এক উপত্যকায় অবতরণ করে বলেন, ‘এমন দু’জন কে আছে, যারা আমাদের জন্য শত্রুর মোকাবেলায় পাহারা দেবে?’ তখন সঙ্গে সঙ্গে একজন আনসারি সাহাবি এবং একজন মুহাজির সাহাবি আম্মার বিন ইয়াসির (রা.) সামনে এগিয়ে আসেন এবং বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমরা পাহারা দেব।
এরপর তাঁরা দুজন সেনাবাহিনীর পেছনে একটি গিরিপথে অবস্থান নেন। নিজেদের মধ্যে পালা ভাগ করে নেন—একজন পাহারা দেবেন, আর অন্যজন নামাজ ও বিশ্রামে থাকবেন। এখান থেকেই শুরু হয় সেই ঐতিহাসিক ঘটনা, যেখানে এক সাহাবি আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে নামাজরত অবস্থায় তীরবিদ্ধ হয়েও তাঁর ইবাদত ভঙ্গ করেননি।
সিএ/এসএ


